...|...|...

বিশ্ব

এই সপ্তাহেই ইরানে নতুন হামলার ছক, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর মোতায়েন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:২১
Shares
এই সপ্তাহেই ইরানে নতুন হামলার ছক, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি সেনা ও নৌবহর মোতায়েনের ফলে নতুন করে তেহরানে হামলার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন কূটনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদই ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সম্প্রতি পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা জানান। সিরিয়া বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মার্কিন কর্মকর্তা উপসাগরীয় অঞ্চল সফরকালে ওই সাক্ষাৎকার দেন। যদিও ইরান বিষয়ে তার সরাসরি কোনো দাফতরিক দায়িত্ব নেই, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক জানতে চান যে এই সপ্তাহের শেষেই হামলা হতে পারে কি না—জবাবে টম ব্যারাক স্পষ্টভাবে জানান, ‘অবশ্যই হতে পারে।’

রাষ্ট্রদূত ব্যারাক বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এ বিষয়ে অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি সবসময়ই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য দরজা খোলা রেখেছেন। গত কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে।

এদিকে, আগামী মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর অঙ্গীকার বারবার ব্যক্ত করেছেন। গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে জোড়া বড় ধরনের বোমা হামলার পর তিনি এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে থাকার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইরানে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এমন কোনো হামলা হবে না।

নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য অবস্থানের বিপরীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্যারাক দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বর্তমান ইসলামিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে পশ্চিমাঘেষা শাহের শাসনের পতনের পর থেকেই তেহরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত।

টম ব্যারাক স্পষ্ট করে বলেন, আপনারা যদি বিশ্ব, আমাদের মিত্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে থাকেন, তবে তার পরিণতি আপনাদের ভোগ করতেই হবে। তবে সেই পরিণতির অর্থ এই নয় যে আমরা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চাই। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে সরকার পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। কারণ, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো—পরিবর্তনের পরের দিন কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেটাই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।