...|...|...

বিশ্ব

সুস্থ হয়েও কেন প্রকাশ্যে আসছেন না মোজতবা খামেনি, মুখ খুললেন ইরানি কূটনীতিক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৬
Shares
সুস্থ হয়েও কেন প্রকাশ্যে আসছেন না মোজতবা খামেনি, মুখ খুললেন ইরানি কূটনীতিক

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার আট মাস পর প্রথমবারের মতো ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন এক সিনিয়র ইরানি কূটনীতিক। 

তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং দেশ পরিচালনা করছেন। তবে হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা ও নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে তিনি এখনও গণমাধ্যমের সামনে আসছেন না।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ নেতার সাথে দেশটির রাষ্ট্রপতির প্রায় ৭ ঘণ্টার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি। এর মাধ্যমেই মূলত শীর্ষ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে এক বিমান হামলায় নিহত হন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বাবার মৃত্যুর পরপরই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনি। তবে ওই হামলার পর থেকে কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ করে আসছেন তিনি, কোনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। এমনকি বাবার জানাজায় তার অনুপস্থিতি তার স্বাস্থ্য ও হত্যা আতঙ্ক নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।

দাবি খণ্ডন করে ইরানি কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি এনডিটিভিকে বলেন, তিনি অত্যন্ত ভালো স্বাস্থ্যে আছেন এবং দারুণভাবে কাজ করছেন। এমনকি আমাদের রাষ্ট্রপতিও উল্লেখ করেছেন যে গত সপ্তাহে তিনি তার সাথে ৭ ঘণ্টার একটি বৈঠক করেছেন। পরশু দিন আমাদের সংসদ স্পিকারও সেখানে যাবেন। তিনিও গতকাল বলেছেন যে তিনি তার সাথে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন। আমার কিছু বন্ধু তার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ভীষণ সুস্থ আছেন এবং নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করে যাচ্ছেন।

বাবার জানাজায় মোজতবার উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নতুন দায়িত্বে আসায় তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি এবং কেউ তাকে দেখেনি। তবে তিনি নিজেই বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় আমি ইরানেই ছিলাম এবং তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। মোজতবা খামেনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিক আরও যোগ করেন, এমনকি কিছু রাতে তিনি ছদ্মবেশে রাস্তায় বের হন এবং সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে অংশ নেন, তিনি বেশ ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সর্বগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যে মোজতবার শারীরিক অবস্থা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তা ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর শরীরের ক্ষত সারিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া এবং কঠোর নিরাপত্তার কারণে তিনি মূলত ‘ছায়া থেকে দেশ পরিচালনা’ করছেন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর দৈনন্দিন ক্ষমতার বড় অংশ অর্পণ করে রেখেছেন।

শীর্ষ কর্মকর্তা ও ভেতরের খবর জানা ব্যক্তিরা বলছেন, গুপ্তহত্যার আশঙ্কাই মোজতবার জনসমক্ষে না আসার প্রধান কারণ। তবে তিনি নিয়মিত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, সমস্ত প্রধান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধের আগেও মোজতবা তার বাবার শীর্ষ সহকারী হিসেবে পর্দার আড়ালের ভূমিকাই বেশি পছন্দ করতেন এবং জনাকীর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলতেন।

গত ২১ জুলাই ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান যে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ ‘দিন দিন বাড়ছে’। অথচ এর আগে আগস্টের শুরুর দিকে তিনি আবার বলেছিলেন যে খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘অত্যন্ত কঠিন’। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষের দিকের ওই বৈঠকে সামরিক বিষয়াদি এবং অর্থনীতি—যেমন সম্পদ সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা ও জ্বালানি ব্যবহার এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া মে মাসেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খামেনির কয়েক ঘণ্টার বৈঠক হয়েছিল বলে জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।