...|...|...

সারাদেশ

চলছে দেশের গভীরতম কূপের খনন, দিনে মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪০ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:২৮
Shares
চলছে দেশের গভীরতম কূপের খনন, দিনে মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

চলছে দেশের গভীরতম কূপের খনন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা হচ্ছে নতুন তিনটি কূপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপে খননকাজ চলছে। এই দুটি কূপের কাজ শেষ হলে একই খননযন্ত্র ব্যবহার করে ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু করা হবে।

এর মধ্যে ৩১ নম্বর কূপটি তিতাসের নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল খনন শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ। কূপটিতে উচ্চচাপ ও উচ্চ তাপমাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ নম্বর কূপ এলাকায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের মধ্যেই কূপটির খনন শেষ করে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের প্রত্যাশা রয়েছে।

গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, ২৯ নম্বর কূপের ২ হাজার ৮৬০ মিটার পর্যন্ত খনন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কারিগরি কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই মাসের মধ্যে এ কূপের খননকাজ শেষ হতে পারে। অন্যদিকে ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ করতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে।

মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, আমরা তিতাসে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করেছি। এর নিচে কী আছে, তা আমরা জানি না। এখন যেহেতু দেশে জ্বালানি সংকট চলছে এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও চাইছেন গভীরতম স্তরে কী আছে, সেটা বের করার জন্য। এজন্যই ৩১ নম্বর কূপটি খনন করা হচ্ছে। আমাদের সার্ভে অনুযায়ী এখানে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এরপর ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। 

বর্তমানে তিতাসের ২৩টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সময়ের সাথে পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও মজুত কমে আসায় উৎপাদনও ধীরে ধীরে কমছিল।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিনটি কূপের খনন সম্পন্ন হবে এবং প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। চাহিদার তুলনায় এই পরিমাণ খুব বেশি না হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এই পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কাট করতে পারব।

তিনি আরও জানান, তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও নতুন কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। 

পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।