...|...|...

ক্যাম্পাস

চবিতে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর শাহজালাল হল, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৯
Shares
চবিতে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর শাহজালাল হল, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহজালাল হলে বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, বড় অঙ্কের বাজেটে বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের কাজ হলেও পুরোনো ও নষ্ট ক্যাবল পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে হলের ২২১ নম্বর কক্ষে আগুন লাগায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে পোড়া গন্ধ পেয়ে আকিব নামের এক শিক্ষার্থীর ঘুম ভাঙে। তিনি দেখতে পান, আগুন পাশের শিক্ষার্থী আমিনুলের কাপড়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পরে দ্রুত আগুন নেভানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তখনও কক্ষে ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান এক শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হলে ওঠার পর থেকেই বৈদ্যুতিক লাইনে ভোল্টেজসহ নানা সমস্যা ছিল। এতে মোবাইল ও ল্যাপটপের চার্জারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের তালিকা অনুযায়ী প্রায় এক লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এরপর বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। সংস্কারকাজ চলাকালে এক শিক্ষার্থী দেখতে পান, পুরোনো নষ্ট ক্যাবল খুলে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের অনুমতির কথা জানান বলে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন। সব ক্যাবল নতুন করার মতো অর্থ বরাদ্দ হয়নি বলেও তাকে জানানো হয়।

শর্ট সার্কিট প্রতিরোধে সার্কিট ব্রেকার স্থাপনের কথা থাকলেও সেটি যথাযথভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রশ্ন, বড় বাজেটে বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের পরও যদি পুরোনো ক্যাবল ব্যবহার করা হয় এবং আগুনের ঘটনা ঘটে, তাহলে কাজের মান ও তদারকির দায় কে নেবে?

এ ছাড়া রিডিং রুমে গ্লাস লাগানোর কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমবার লাগানো গ্লাস পরিবর্তন করে পরে নতুন গ্লাস লাগানো হয় বলে জানান তারা। একই কাজে একাধিকবার অর্থ ব্যয়ের বিষয়েও জবাবদিহি চান তারা।

শিক্ষার্থীরা শাহজালাল হলের বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার প্রকল্পের বাজেট, ব্যবহৃত ক্যাবলের মান ও কাজের তদারকি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।