...|...|...

খুলনা

খুলনায় স্কুলশিক্ষার্থী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫:১২ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:২৫
Shares
খুলনায় স্কুলশিক্ষার্থী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নেশাগ্রস্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশের আঘাতেই নির্জনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।

শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম নিহতের মায়ের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। একই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জবানবন্দিতে সিমা জানান, অল্প বয়সে পরপর দুটি বিয়ে, বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকাকে কেন্দ্র করে নির্জনার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তার বাবা। ঘটনার দিন বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সোনাডাঙ্গার বসুপাড়ার বাসায় এ বিষয় নিয়ে ফের পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নির্জনার বাবা তার মাথার পেছনে লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন। এতে সে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়।

পরে লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখেন নির্জনার বাবা ও মা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

পরিচয় শনাক্তের পর পুলিশ সোনাডাঙ্গার বসুপাড়ার বাসায় গিয়ে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঘটনার পর প্রথমদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নির্জনার বিয়ে হয়েছিল এবং তার স্বামীই তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, নিহতের বাবা-মাই এ ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ ও মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।