সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ ব্ল্যাক কফি দিয়ে দিন শুরু করেন অনেকেই। কেউ সতেজ থাকতে, আবার কেউ ওজন নিয়ন্ত্রণের আশায় খালি পেটে কফি পান করেন। তবে এই অভ্যাস সবার জন্য উপকারী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পেটের অস্বস্তি, বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের বিষয়টি অনেকেরই উদ্বেগের কারণ।
পাবমেডে প্রকাশিত গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) তথ্য অনুযায়ী, খালি পেটে কফি খেলেই সবার পেটে সমস্যা হবে—এমন প্রমাণ নেই। তবে কফি ও ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা বা পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
পেটের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়াতে পারে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি বড় পর্যালোচনায় ৪০টি গবেষণা এবং ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে কফি পানকারীদের মধ্যে GERD-এর হার সামান্য বেশি দেখা গেলেও, এই পার্থক্যের চিকিৎসাগত গুরুত্ব কতটা, তা নিশ্চিত নয়।
তাই কফি খেলেই সবার গ্যাস্ট্রিক হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা বা সংবেদনশীল পাকস্থলীর সমস্যা থাকলে খালি পেটে কফি পান করে অস্বস্তি হলে অভ্যাসটি পরিবর্তন করা ভালো।
ওজন কমাতে কি সাহায্য করে?
ব্ল্যাক কফিকে অনেকেই ওজন কমানোর সহজ উপায় মনে করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়ায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু শুধু খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলেই দ্রুত শরীরের চর্বি কমে যাবে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত ঘুম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্ল্যাক কফিকে ওজন কমানোর ‘ম্যাজিক ফ্যাট বার্নার’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
দিনে কতটা কফি নিরাপদ?
FDA-এর তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে মোট ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সাথে যুক্ত নয়। তবে ব্যক্তি ভেদে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা আলাদা এবং কফির ধরন ও তৈরির পদ্ধতি অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণও বদলে যায়।
অতিরিক্ত ক্যাফেইনে অস্থিরতা, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে।
কীভাবে কফি খাবেন?
কফি থেকে উপকার পেতে খালি পেটে পান করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। খালি পেটে কফি খেলে বুকজ্বালা বা পেটে অস্বস্তি হলে নাশতার পর পান করতে পারেন। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা উচ্চ-ক্যালরির ক্রিমার এড়িয়ে চলা ভালো। ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ কমানো উচিত।
সব মিলিয়ে, খালি পেটে ব্ল্যাক কফি সবার জন্য ক্ষতিকর নয়, আবার সবার জন্য সমান উপকারীও নয়। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করাই সবচেয়ে ভালো।



