বাজারের সব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণিত করে গত সেপ্টেম্বর মাসে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং এর সাথে সামান্য বেড়েছে বেকারত্বের হার।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, এর ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অর্জিত সমস্ত কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি পুরোপুরি মুছে গেছে।
রয়টার্স বলছে, পরিসংখ্যান কানাডার তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ৪১,৭০০ পদ হারানোর পর সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির অর্থনীতিতে নিট ৬৮,৩০০টি চাকরি হারিয়ে গেছে। একই সাথে বেকারত্বের হার বেড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্সের জরিপ করা বিশ্লেষকরা সেপ্টেম্বর মাসে ৯,২০০ নতুন চাকরি সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এবং আগস্টের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করেছিলেন। সেপ্টেম্বরের এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে চলতি বছরে কানাডায় নিট ৪১,২০০ চাকরি হ্রাস পেল, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ২১১,৩০০টি কর্মসংস্থানের শক্ত অবস্থান দেখা গিয়েছিল।
সরকারি খাত ও শিক্ষায় সবচেয়ে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি কানাডায় কার্যকর হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসটি ছিল কর্মসংস্থানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মাসিক প্রতিবেদন। তবে মার্কিনমুখী শিল্পগুলোতে চাকরি হারানোর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি ছিল না; বরং এর বিপরীতে সবচেয়ে বড় পতন এসেছে সরকারি খাতের কর্মীদের মধ্য থেকে।
পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন উভয় ধরনের কর্মীদের মধ্যেই এই চাকরি হারানোর হার প্রায় সমান ছিল। এর পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছে শিক্ষাসেবা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাত। এই দুটি খাতই সরকারি খাতের একটি বড় অংশ গঠন করে এবং সম্মিলিতভাবে তারা ৫৮,৪০০টি চাকরি হারিয়েছে।
পরিসংখ্যান কানাডা জানিয়েছে, কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়া শিক্ষাসেবা খাতে চাকরি কমে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ।
অন্যদিকে, আমেরিকার বাজারের সঙ্গে আংশিক সম্পৃক্ত ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতে নিট ১২,৭০০টি চাকরি কমেছে। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, মার্কিন নতুন শুল্কগুলো মার্কিননির্ভর চাকরির একটি ক্ষুদ্র অংশকেই প্রভাবিত করে এবং আগামী মাসগুলোতে কর্মসংস্থানের তথ্যের ওপর এর কোনো বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
শ্রমবাজারে অন্যান্য প্রভাব ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
সেপ্টেম্বরের এই কর্মসংস্থানের প্রতিবেদনটি চলতি মাসের শেষে ব্যাংক অব কানাডার মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঠিক আগের সর্বশেষ চাকরির ডেটা। অর্থবাজারগুলো ধারণা করছে যে অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানো হবে না, তবে এই ডেটা প্রকাশের আগে ডিসেম্বরে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা কিছুটা বাড়ছিল।
সেপ্টেম্বরে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার (যারা কর্মরত বা কাজ খুঁজছেন) দশমিক ২ শতাংশ কমে ৬৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মহামারি কাল বাদ দিলে গত ২৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর। মূলত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্লথ অভিবাসনের কারণে নতুন কর্মী দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ না হওয়ায় এমনটি ঘটেছে। এছাড়া আগস্টে সামান্য হ্রাসের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি যুবকদের কর্মসংস্থানও ৪৮,০০০ কমে গেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণও এই হ্রাসের অন্যতম একটি কারণ।
মূল্যস্ফীতির অন্যতম সূচক স্থায়ী কর্মীদের গড় প্রমিত ঘণ্টার মজুরি বৃদ্ধির হার আগস্টে ২ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এদিকে, এই চাকরির প্রতিবেদনের পর কানাডীয় ডলারের দরপতন ঘটেছে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে এটি দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৪২৮৭ কানাডীয় ডলারে (কিংবা ৬৯.৯৯ মার্কিন সেন্টে) লেনদেন হচ্ছিল। দুই বছরের সরকারি বন্ডের সুদের হারও প্রাথমিক অবস্থান থেকে ৯ দশমিক ৫ বেসিস পয়েন্ট কমে ২ দশমিক ৪১০ শতাংশে নেমে এসেছে।


