কলকাতার খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে চিনি, শাকসবজি ও অন্যান্য আনাজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সাথে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চালের দাম বাড়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার কলকাতার হগ মার্কেটের সামনে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, খুচরা বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তবে রাজ্যে উৎপাদিত চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, বাজারে হঠাৎ করে চিনি ও সবজির দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও রাজ্যে উৎপাদিত চালের দাম কেন বাড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ক্রেতাসুরক্ষা দফতর দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল বলেও অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তার দাবি, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রেতাসুরক্ষা নিয়ে এমন কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার নজির তিনি আগে দেখেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ের কথাও উল্লেখ করেন।
খাবার ও নিত্যপণ্যে ভেজাল এবং ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, সবজি ও মাছকে আরও সতেজ দেখাতে কোথাও কোথাও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হচ্ছে। মিষ্টিতেও নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, খাবারে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহার করা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। একই সাথে দাঁড়িপাল্লায় কারচুপি করে ক্রেতাদের ঠকানোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এসব অনিয়মের সাথে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা যুক্ত থাকতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তার বক্তব্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা, ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের কর্মী কিংবা খাদ্য পরিদর্শকদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শুভেন্দু। এ ক্ষেত্রে আগের তৃণমূল সরকারের সময় রাজ্যে বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাই শুধু ক্রেতা নয়, বিক্রেতাদেরও নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।
খাবার সরবরাহকারী অ্যাপকে কেন্দ্র করে প্রতারণার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রায় ১০ দিন আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের একটি দল নিউটাউনের একটি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে খাবার সরবরাহের নামে ভুয়া বুকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
শুভেন্দুর দাবি, ওই ঘটনায় প্রায় ১২০ জন ভুয়া বুকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্য বা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল না।
ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তার মতে, বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে।


