...|...|...

বিশ্ব

ওয়াইফাই ব্যবহার করায় আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা হলো না মাদক কারবারির

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৮
Shares
ওয়াইফাই ব্যবহার করায় আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা হলো না মাদক কারবারির

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একটি আলমারির ভেতর লুকিয়েছিলেন মাদক কারবারি। কিন্তু একটি ভুলের কারণে শেষ রক্ষা হয়নি তার। পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ওই আলমারি থেকেই তাকে আটক করা হয়। ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা। তিনি উত্তর কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করতে ‘ববি’ নামের মাদক কারবার পরিচালনা করছিলেন।

‘দ্য মেট্রো’র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি জানিয়েছে, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন শিশুর কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর পুলিশ ওই মাদক কারবারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। নিজের অবস্থান গোপন রাখতে লুইস বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন ডিভাইসে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করতেন তিনি।

তবে তিনি যে ঠিকানায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে থাকা একটি ডিভাইস পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই ঠিকানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে লুইস একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে পুলিশ দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করে। গ্রেফতারের সময় তিনি নাকি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’

‘দ্য মেট্রো’ জানিয়েছে, লুইসের ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার কাছে থাকা প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর তালিকা থেকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফোনকল আসত। পুলিশ তার কাছ থেকে কোকেন ও হেরোইনসহ ‘ক্লাস এ’ মাদক উদ্ধার করে। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড।

এ ছাড়া প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ এবং ছয়টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফোনগুলোর একটি ‘ববি’ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই বাড়ি থেকে একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩টি গুলি, একটি ধারালো বড় ছুরি এবং একটি ভাঁজ করা ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনে সহায়তার জন্য লুইস তরুণদের নিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে তারা সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তদন্তের নেতৃত্ব দেয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, মাদক সরবরাহের এ ধরনের কার্যক্রম তরুণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

‘দ্য মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কিলবার্নে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের অপরাধে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।