...|...|...

বিশ্ব

ওআইসিতে গৃহীত কাশ্মীর প্রস্তাবের নিন্দা জানাল ভারত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:০৫
Shares
ওআইসিতে গৃহীত কাশ্মীর প্রস্তাবের নিন্দা জানাল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকে গৃহীত কাশ্মীরবিষয়ক প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছে ভারত। প্রস্তাবনায় ভারতবিরোধী মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে নয়াদিল্লি বলেছে, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরাতে ওআইসিকে ব্যবহার করছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই বলছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায়। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইরাকের বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবনায় ভারত সম্পর্কে করা মন্তব্য স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রভাবে ওআইসি আবারও সংকীর্ণ ও গোঁড়ামিপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার বা বৈধতা ওআইসির নেই বলেও উল্লেখ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এ বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না। ভারতের দাবি, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর গত কয়েক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো, পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেও সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আড়াল করা যায়নি।

কাশ্মীর ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করা অঞ্চলগুলো ছেড়ে দেওয়া এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করাই এখন সমাধানের অপেক্ষায় থাকা বিষয়।

ওআইসির প্রস্তাবনায় ভারতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিশেষ করে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া-সংক্রান্ত ইঙ্গিতও প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, নিজেদের শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরাতেই পাকিস্তান এসব করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, পাকিস্তানের প্রচারণাকে বারবার সমর্থন দেওয়ায় ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির সদস্যদেশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারে উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।