সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তবে হামলাটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না, কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য স্থাপনায় হামলার দাবি করেছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দাহরানস্থ সদর দফতরেও হামলার ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর রাতে আরামকোর স্থাপনা চত্বরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একটি কার্যালয়ের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ওই ঘটনায় সীমিত পরিসরে আগুন লাগলেও কেউ হতাহত হননি।
পরদিন ১৪ অক্টোবর হুথিরা সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। একই দিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন এবং দেশটিতে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে হুথিদের সাথে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
সর্বশেষ ঘটনায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরেও হামলার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।


