ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচিতে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোটের রাজ্য পর্যায়ের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে টিভিকে। এর ধারাবাহিকতায় চেন্নাইয়ে জোটের আয়োজিত বিক্ষোভেও দলটি অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতেও দলটির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে) নেতা থল থিরুমাভালাভান।
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর একাংশ দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের আশঙ্কা, এ প্রক্রিয়ার কারণে তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিও তুলেছে বিরোধী জোটের বিভিন্ন দল। এসব দাবিকে সামনে রেখে জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে ও এমডিএমকের মতো দলগুলোর সাথে তামিলনাড়ুতে জোটের একটি বৈঠকে অংশ নেয় টিভিকে। সেখানে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে টিভিকেকে স্বাগত জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই সাক্ষাৎকে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে টিভিকে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।
ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিতে টিভিকের অংশগ্রহণ রাজ্যটির রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে জাতীয় পর্যায়ে জোটের সাথে দলটির সম্পৃক্ততা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির ওপর।
বিজয়ের জনপ্রিয়তা এবং টিভিকের রাজনৈতিক অবস্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেও নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


