ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী আদেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীদের চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংঘটিত এই হামলায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জানান, নিহত ও আহতরা সবাই প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা রক্ষী এবং বেসামরিক কর্মী। এই হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আদেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারের ওপর চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, জনগণের মাঝে থেকে সরকার তার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া অব্যাহত রাখবে।
এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা সম্পূর্ণ ‘নিরাপদ’ রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে আল-মাশিক প্যালেসের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, প্রাসাদের আশপাশের আবাসিক এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িতেও গোলাবর্ষণ করেছে হুথিরা। এছাড়া মারিব শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, হুথি পরিচালিত আল-মাাসিরাহ টিভি জানায়, এক সামরিক সূত্র প্রাসাদের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে এটিই প্রথম কোনো হামলার ঘটনা।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা আদেনে অবস্থিত ‘সৌদি যুদ্ধ অপারেশন সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, যেকোনো ধরনের ‘সৌদি সামরিক উপস্থিতি’ হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা জাতীয় রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ইয়েমেনে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলছে। এর জবাবে ২০১৫ সালে সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে দেশটিতে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা শুরু হয়েছে।


