ঘরের দরজা খুলছিল না। ভেতরে আটকে পড়েছিলেন ৮০ বছর বয়সী আক্তার হোসেন ও ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর উদ্ধারকারীরা যে দৃশ্য দেখলেন, তা ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী।
আটকে পড়েও আতঙ্কে ছিলেন না বয়োজ্যেষ্ঠ এই দম্পতি। বরং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দেখে তাদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির মিষ্টি হাসি। উদ্ধার হওয়ার পরও সেই হাসিমুখেই উদ্ধারকারীদের শুভেচ্ছা জানান তারা।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুর রোডের ধানমন্ডি এলাকার একটি ভবনের নবম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পলাশী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। নবম তলার ফ্ল্যাটটির দরজা ভেতর থেকে এমনভাবে আটকে যায় যে আক্তার হোসেন ও মনোয়ারা বেগম কোনোভাবেই সেটি খুলতে পারছিলেন না।
পরিস্থিতি বুঝে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কৌশলে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে নিরাপদে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন তারা।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন পলাশী ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম সুমন।
ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিপদের খবর পেলেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ধরনের বহু উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছেন। তবে সোমবারের ঘটনাটি তার কাছে কিছুটা আলাদা মনে হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, সাধারণত কোনো ঘরে কেউ আটকে পড়লে উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। কিন্তু এ ঘটনায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য দেখতে পান তারা।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যখন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন, তখন বয়োজ্যেষ্ঠ দম্পতি তাদের দিকে তাকিয়ে খুব মিষ্টি করে হাসেন। তাদের মুখে আতঙ্কের বদলে স্বস্তির সেই হাসি দেখে তিনি ও তার সাথে থাকা সহকর্মীরা আনন্দিত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার হন আক্তার হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।


