...|...|...

বিশ্ব

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় একদিনে ৫০০ হুথি যোদ্ধা ‘নিষ্ক্রিয়’

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:১৩
Shares
ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় একদিনে ৫০০ হুথি যোদ্ধা ‘নিষ্ক্রিয়’

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৭২টি অভিযানে প্রায় ৫০০ হুথি যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে ১৬৯টি যানবাহন, বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আনাদোলু বলছে, রবিবার (২ নভেম্বর) দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি এ তথ্য জানান। তবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-নুজাইলি জানান, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ বা ‘ইয়েমেনের ভোর’ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের অবস্থান, শক্তিশালী ঘাঁটি, প্রতিরক্ষা ব্যূহ, গোলাবর্ষণের স্থান এবং সরবরাহ পথ লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, এসব অভিযান স্থলপথে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রায় সহায়তা করেছে। পাশাপাশি উত্তর ইয়েমেনের আল-জওফ ফ্রন্টে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারেও ভূমিকা রেখেছে। মারিব, আল-বায়দা, লাহজ ও তাইজ প্রদেশেও সরকারি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আল-নুজাইলি আরও জানান, তাইজে সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র ‘পপুলার রেজিস্ট্যান্স’ যোদ্ধারা যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামানের সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা হুথিদের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি তাইজের দক্ষিণে আল-মিসরাখ জেলায় বিদ্রোহীদের অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

তবে সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তাইজে একটি বাড়িতে হুথিদের ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক নারী।

এদিকে, আল-জওফে সরকারি বাহিনী শনিবার কৌশলগত হুওয়াইশিয়ান পর্বতমালা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, পর্বতমালাটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের সম্মুখ প্রতিরক্ষা রেখা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

গত ৫ অক্টোবর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মুক্ত করা এবং রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করে সরকারি বাহিনী।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নেওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে।