ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মার্কো ক্রিচাককে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই অভিযোগে সংগঠিত অপরাধ দমন বিভাগের পুলিশ কমান্ডার বোস্কো সেকুলোভিচকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল কিংবা পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণে শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে এই গ্রেফতারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে দেশটির কৌঁসুলির দফতর।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (১ নভেম্বর) ৪২ বছর বয়সী মার্কো ক্রিচাককে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন বোস্কো সেকুলোভিচকেও গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন বেলগ্রেডের প্রধান কৌঁসুলি নেনাদ স্তেফানোভিচ।
তিনি জানান, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার ও কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বেলগ্রেডের সাবেক পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তিনি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় অপরাধজগতের সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এসব অভিযোগের সূত্রপাত হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর অপরাধের তথ্য গোপন এবং অপরাধীকে সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন সাবেক পুলিশপ্রধান মিলিচ।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ক্রিচাক ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন তিনি। তার অভিযোগ, ওই দুই কর্মকর্তা কৌঁসুলিদের কাছে অসম্পূর্ণ ও মিথ্যা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কো ক্রিচাককে পরাজিত প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচের ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভুচিচের ক্ষমতাসীন ডানপন্থি দলকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবিতে চলা বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর ভূমিকার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ক্রিচাক।
গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন ক্রিচাকসহ কয়েকজন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানায়। ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে তারা এ দাবি তোলে। তবে এসব দাবির সাথে সাম্প্রতিক গ্রেফতারের কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানিয়েছে কৌঁসুলির দফতর।
প্রধান কৌঁসুলি নেনাদ স্তেফানোভিচ সাংবাদিকদের বলেন, এই গ্রেফতারের সাথে আইনসভা নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সমর্থনপুষ্ট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ঐতিহাসিক জয় পায়। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ ওই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

