গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে উসকানি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১ নভেম্বর) ভোরে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার দফতর সম্পাদক ইউসুফ সিকদার, মৌচাক ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আরিফুল হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মিয়া, যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মিজান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল, সৈকত শেখ ও মিজানুর রহমান।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সাথে যুক্ত হয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত কালিয়াকৈর থানার পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান রবিবার দুপুরে তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম। একই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন উসকে দিয়ে রাষ্ট্রকে অশান্ত করার সুযোগ দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি এবং তাদের শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনে যুক্ত রয়েছে। ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে এ ধরনের আরও আন্দোলন গড়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


