বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের কারণে নেতৃত্বের বৈচিত্র্য তৈরি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, রাজনীতিতে কালো টাকার ব্যবহার এখনো বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের বিকাশও ঘটেনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহিংসতা কমে আসবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে এখনো সহিংসতার প্রবণতা রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব, অর্থায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে টিআইবি। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
টিআইবির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত সহজ করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর নিবন্ধনের শর্ত পর্যালোচনা করে নিবন্ধন নবায়নের ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া আরপিও, ১৯৭২ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য ব্যক্তিদের কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাধারণ কমিটির সদস্য না করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির সুপারিশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার দলের স্থানীয় সদস্যদের গোপন ভোটে তৈরি প্যানেল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীর অন্তত তিন বছরের দলীয় সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব দলের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করারও সুপারিশ করেছে টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্বে বৈচিত্র্য, নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশিত পরিবর্তন অর্জন কঠিন হবে।

