ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হলেই জানা যেতে পারে দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা। তবে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। কারণ, ইসরায়েলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। ফলে সরকার গঠনে দলগুলোকে জোটের সমীকরণ মেলাতে হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ রাত ১০টা পর্যন্ত চলার কথা। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সারি থাকলে নির্ধারিত সময়ের পরও ভোটগ্রহণ চলতে পারে।
ইসরায়েলে রাত ১০টা বাজলে বাংলাদেশে তখন রাত ২টা। নির্ধারিত সময়ে ভোট শেষ হলে বাংলাদেশ সময় রাত ২টার পর বেসরকারি সংস্থা ও টেলিভিশনগুলোর প্রকাশ করা বুথফেরত জরিপের ফল জানা যেতে পারে। এসব জরিপ থেকে দলগুলোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে এগুলো চূড়ান্ত ফল নয়।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। দেশটির নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে নয়, বরং রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। দলগুলো জাতীয়ভাবে পাওয়া ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে আসন পায়। তবে আসন পাওয়ার জন্য একটি দলকে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়।
সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন। ফলে সাধারণত একাধিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়।
নির্বাচনের পর দলগুলোর আসনসংখ্যা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে জোট গঠনের আলোচনা চলে। কোন দল সরকারে থাকবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জোটের অংশীদারদের মধ্যে কীভাবে দায়িত্ব ভাগ হবে- এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এ কারণে ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম নিশ্চিত হওয়া যায় না।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপের বরাতে বলা হয়েছে, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি। ওই জরিপে আইজেনকোটের দল ৫৪টি এবং লিকুদ পার্টি ৫০টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরব দলগুলোর জন্য ১৩টি আসনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জরিপে আসনসংখ্যার পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। শেষ পর্যন্ত কোন দল কত আসন পাবে এবং কারা জোট গঠন করতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর পরিচয়।
সূত্র: আলজাজিরা।


