...|...|...

বিশ্ব

বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৫৬ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৫৭
Shares
বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে করমর্দন করেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একইসাথে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দুই দেশ। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

পোস্টে সানায়ে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরালো সমর্থন দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে নতুন কৌশলগত উদ্যোগের আওতায় এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ। পাশাপাশি শিল্পের মূল্য সংযোজন, সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই কৌশলগত উদ্যোগে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা বাড়ানো।

সানায়ে তাকাইচি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাজার জাপানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পোস্টে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তাকাইচি। তিনি জানান, তারেক রহমান জাপানের শান্তিপ্রিয় ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দেশটির দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

সানায়ে তাকাইচি বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগের মাধ্যমে একসাথে কাজ করবে। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশ আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।