ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের কাছে চলতি সপ্তাহে দেওয়া নতুন এক হিসাব অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এই অর্থ ব্যয় হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার প্রকাশিত কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলার। সংঘাতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা নতুন হিসাব, যা এর আগে পাঞ্চবোল নিউজ প্রকাশ করেছিল, সেখানে মার্কিন বাহিনীর বিপুল পরিমাণ ব্যয়বহুল গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মাত্র এক মাসে অস্ত্রের পেছনে ব্যয় ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে যেখানে অস্ত্রের ব্যয় ছিল ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের নতুন হিসাবে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে।
নতুন হিসাবের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার খরচ, সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ব্যয় এবং সেনাদের চিকিৎসা সহায়তার খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় এতে ধরা হয়নি।
ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের হিসাবে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
নতুন প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত ছিল গোলাবারুদ। মোট ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ এ খাতে ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রও রয়েছে।
মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ায় ইউরোপেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেখানে মার্কিন ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি ‘সংকটজনক পর্যায়েরও অনেক ঊর্ধ্বে’ পৌঁছেছে।


