ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় চরম নেতৃত্বসংকট, অস্ত্রের ঘাটতি ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল, যাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছিল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে চলমান সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনী বেসামরিক ও সামরিক—দুই ধরনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেই বঞ্চিত হলো। ড্রিসকল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে তার বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মতবিরোধ চলছিল।
হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে পদচ্যুত কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, তার সময়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর শীর্ষ অ্যাডমিরাল ও সেনাপ্রধানসহ দুই ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দায়িত্ব হারিয়েছেন। মেরিন কর্পস ও স্পেস ফোর্সের প্রধান ছাড়া জয়েন্ট চিফসের প্রায় পুরো নেতৃত্বই বদলে ফেলা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর হেগসেথ ব্যক্তিগতভাবে অন্তত ৪৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন। সম্প্রতি এক ডজনের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক ও নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক পদোন্নতিতে এ ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপকে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পেন্টাগনের ভেতরের বিশৃঙ্খলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিরক্ষা দপ্তর। পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দায়িত্বশীল সেনা কর্মকর্তাদের জন্য অপমানজনক।


