ছয় দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খোদেজা আক্তারকে (৫৫) দেখতে বাহরাইন থেকে দেশে ফেরার টিকিট কেটেছিলেন একমাত্র ছেলে মো. শাহীন। কিন্তু মায়ের কাছে ফেরার সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। টিকিট কাটার মাত্র এক ঘণ্টা পরই পেলেন মায়ের মৃত্যুর খবর।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত খোদেজা আক্তার মারা যান। তিনি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের জয়ন্তীনগর গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পার্শ্ববর্তী বীরচন্দ্র নগর গ্রামে তালিম অনুষ্ঠান শেষে জয়ন্তীনগর গ্রামের রাবার বাগান-সংলগ্ন সড়ক দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন খোদেজা। পথিমধ্যে বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে রাবার বাগান থেকে যাওয়া ফেনী-ল ১১-৪৪৮০ নম্বরের বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় বাসিন্দারা খোদেজাকে উদ্ধার করে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে ঘটনার পর ঘাতক মোটরসাইকেলটির মালিকানা সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনী-ল ১১-৪৪৮০ নম্বরের মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. শাহজাহান মজুমদার ও রহিম উল্লাহ মজুমদারের নাম পাওয়া গেছে। তারা ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
নিহতের ননদ জাহিদা আক্তার বলেন, তিনি (খোদেজা) অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।
বিউটি আক্তার নামে নিহতের আরেক স্বজন বলেন, আমার ফুপু খুবই সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো না। মায়ের এই অবস্থায় পাশে থাকতে তার একমাত্র ছেলে বাহরাইন থেকে দেশের আসার জন্য টিকেট নিয়েছিল। তার এক ঘণ্টা পরই ফুপুর মৃত্যু হয়। পরে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাহরাইন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আমার ভাই। আজ দুপুর ৩টার দিকে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে ফুপুকে দাফন করা হবে।
এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


