...|...|...

সারাদেশ

সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠিতে দুর্গাপ্রতিমা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:০৮ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯
Shares
সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠিতে দুর্গাপ্রতিমা

প্রথম দেখায় মনে হবে, ঝলমলে কাপড় আর সূক্ষ্ম অলংকারে সাজানো দেবী দুর্গা। কিন্তু একটু কাছে যেতেই বদলে যাবে সেই ধারণা। শাড়ির কুঁচি থেকে অলংকার—সবখানেই দেখা যাবে সারি সারি দেশলাই কাঠি। কাঠির ফাঁকে জড়িয়ে আছে রেশমি সুতা। সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে এবার এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজনে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে চলছে এই প্রতিমা তৈরির কাজ। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে প্রতিদিনই মন্দিরে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মাটির তৈরি প্রতিমার অবয়বের ওপর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেশলাই কাঠি বসাচ্ছেন শিল্পীরা। কোথাও কাঠি রাখা হয়েছে সোজা সারিতে, আবার কোথাও দেওয়া হয়েছে ঢেউখেলানো নকশা। কাঠির ফাঁকে ফাঁকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রেশমি সুতা। দেবীর শাড়ির কুঁচি, পোশাক ও অলংকারেও ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে কাঠির নকশা।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, কাপড়ের ভাঁজ আর ঝলমলে অলংকারে সাজানো হয়েছে প্রতিমা। তবে কাছে গেলেই চোখে পড়ছে এই পুরো কারুকাজের মূল উপকরণ দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা।

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, তিন বছর আগে ভারতে একটি মন্দিরে গিয়ে এ ধরনের কাজ দেখেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, পূজার আগে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। কখনো রাত দুইটা-তিনটা পর্যন্তও কাজ করতে হয়। একটি কাঠি সামান্য এদিক-ওদিক হলে পুরো নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। তাই প্রতিটি কাঠি খুব সতর্কতার সাথে বসাতে হচ্ছে।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমার পোশাক ও অলংকার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। শুধু প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পূজার অন্যান্য খরচসহ এবার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

তবে ব্রহ্মরাজপুরে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির আয়োজন এবারই প্রথম নয়। গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল দুর্গাপ্রতিমা। সেই প্রতিমা দেখতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসেছিলেন।

গত বছরের আয়োজনের ব্যাপক সাড়া থেকেই এবার আরও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটি।

কমিটির উপদেষ্টা কানাইলাল বলেন, গত বছর ধানের প্রতিমা তৈরির পর থেকেই এবার আরও আকর্ষণীয় কিছু করার চিন্তা ছিল। সেই ভাবনা থেকেই দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। এবার সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা রানী বলেন, গতবার ধানের তৈরি প্রতিমা দেখতে অনেক মানুষ এসেছিলেন। এবার দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি প্রতিমাও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করছি।

ব্রহ্মরাজপুর শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম ঘোষ বলেন, গত বছর ধানের প্রতিমা দেখতে প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। সেখান থেকেই এবার কমিটি ও ভাস্করের সাথে আলোচনা করে দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা মনে করছি, এটি একটি ইউনিক আয়োজন।

সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, দেশলাই কাঠি দিয়ে শিল্পীরা দেবী দুর্গার পোশাক ও অলংকারে যে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলছেন, তা প্রশংসনীয়। আশা করছি, এবারও সাতক্ষীরার বাইরের দর্শনার্থীরাও এই প্রতিমা দেখতে আসবেন।