...|...|...

সারাদেশ

প্রশ্ন তৈরি করে স্কুল থেকে টাকা নেয় উপজেলা শিক্ষক সমিতি, তদন্তের আশ্বাস ডিসির

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪৮
Shares
প্রশ্ন তৈরি করে স্কুল থেকে টাকা নেয় উপজেলা শিক্ষক সমিতি, তদন্তের আশ্বাস ডিসির

প্রশ্ন তৈরি করে স্কুল থেকে টাকা নেয় উপজেলা শিক্ষক সমিতি। ছবি: টাইমস টুডে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে প্রশ্নপত্র তৈরির কথা। অথচ সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করে সরবরাহ করছে উপজেলা শিক্ষক সমিতি। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে টাকা। 

শুধু এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা নয়, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নও সমিতির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরির এখতিয়ার ও অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির আওতায় রয়েছে ৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২০ থেকে ২২টি প্রতিষ্ঠান সমিতির কাছ থেকে প্রশ্ন নেয় বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা দেয়, কীভাবে প্রশ্ন তৈরির খরচ নির্ধারণ করা হয় সে বিষয়ে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সমিতির কাছ থেকে সব বিষয়ের প্রশ্ন নিতে একেক প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। তবে এ খরচ প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাভেদে ভিন্ন।

সদর উপজেলার কুশখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জব্বার জানান, তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪৫০ জন। তারা শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে প্রশ্ন নেন। গত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় সব বিষয়ের প্রশ্নের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল রহমান খোকন বলেন, শিক্ষকদের নিজেদের প্রশ্ন তৈরির দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষকদের সিলেবাস দিয়ে প্রশ্ন তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। এর আগে একবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার জন্য সমিতির কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়েছিলেন। তখন সব বিষয়ের প্রশ্নের বিল এসেছিল ১৮ হাজার টাকা।

আশরাফুল রহমান বলেন, পরে হিসাব করে দেখেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী নিজেরা প্রশ্ন তৈরি করলে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে করা সম্ভব। এতে খরচ কমার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশ্ন তৈরির দক্ষতাও বাড়বে। তার ভাষ্য, সাতক্ষীরা রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় নিজেদের প্রশ্ন নিজেরাই তৈরি করে।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা। তবে সাতক্ষীরার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা শুরু করলেও শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে প্রশ্ন নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ২৭ অক্টোবর থেকে সমিতির নির্ধারিত রুটিনে পরীক্ষা শুরু করেছে। অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নও সমিতির মাধ্যমে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ বলেন, সব স্কুল তো আসে না, গোটা ২০–২২টি স্কুল যে পারে, তারা নেয়। সমিতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে হয়। তবে এটা এখন পার্ট পার্ট হয়ে গেছে।

প্রশ্ন তৈরির জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আপনি তাহলে নিউজ করেন, যদি মনে করেন নিউজ করার দরকার, নিউজ করেন। এটা হয়ে আসছে ৩০ বছর আগে থেকে। এখন নিয়ম হচ্ছে, সরকারি নিয়ম হলো প্রশ্ন করবে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। সরকারি নিয়মের বাইরে তো আমরা যেতে পারি না। সমিতির করার কোনো নিয়ম নেই। এখন করা হয়ে গেছে, আর করা হবে না, যা হয়েছে তাতে পরীক্ষা নেক।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে প্রশ্নপত্র তৈরি করার কথা। আগে শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে প্রশ্ন তৈরির প্রচলন ছিল। তবে এ নিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ তারা পাননি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের প্রশ্ন নিজেরা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাওসার আজিজ বলেন, শিক্ষক সমিতির প্রশ্ন তৈরির কোনো এখতিয়ার আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি তিনি সাংবাদিকের কাছ থেকেই প্রথম জেনেছেন। সমিতিকে সতর্ক করা হবে। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা-ও দেখা হবে।