...|...|...

সোশ্যাল মিডিয়া

তাশরীফের বাবা

আল্লাহ আমাকে একটা নেক সন্তান দিয়েছেন, শয়তানের চক্করে পড়ে ভুল করেছি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৬
Shares
আল্লাহ আমাকে একটা নেক সন্তান দিয়েছেন, শয়তানের চক্করে পড়ে ভুল করেছি

ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারী মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ ও তার অসুস্থ বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারী মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ ও তার অসুস্থ বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ সব ধরনের ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব মিটিয়ে একসাথে এক ছাদের নিচে মিলিত হয়েছেন। 

অনেকেই তাদের নিয়ে দেশে বড় একটি ইস্যু তৈরি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। তিনি জানিয়েছেন, পারিবারিক রাগ-অভিমান ও মনোমালিন্য তারা পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চান। তার বাবা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছেন। তিনিও বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আশা করছেন, বাবা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুকে বাবাকে পাশে নিয়ে দীর্ঘ এক ভিডিওবার্তা দেন তাশরীফ। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় তাশরীফ বলেন, পরিবারে কখনো রাগ-অভিমান, কখনো আদর-ভালোবাসা, এসব হয়েই থাকে। আমরা সেগুলো পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চাই সবসময়। আমার বাবা আজকে স্বেচ্ছায় এসেছেন আমার কাছে। আমি আমার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আশা করি তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা পরস্পর মিলে থাকতে চাই। আশা করি, এসব নিয়ে আর কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আশা করি, আমার প্রতিও আমার বাবার কোনো অভিযোগ থাকবে না। পেছনে যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা সামনের জীবনটাকে সুন্দর করতে চাই। দেশের সবার সামনে আমাদের একটা সুন্দর পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাই।

তাশরীফ বলেন, আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পর পিতামাতার খেদমত করা সন্তানের দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিক যেভাবেই সম্ভব, তিনি বাবা-মায়ের খেদমত করতে চান। আগেও তিনি তা চেয়েছিলেন। তবে তাদের ঘরের আশপাশে থাকা কিছু শত্রু তাদের একসাথে মিলেমিশে থাকতে দিতে চায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত কোরবানির ঈদের সময় পারিবারিক বিরোধ ও মনোমালিন্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তাশরীফ বলেন, এখন থেকে মাস বা টাকার হিসাবে নয়- যখন, যে সময়, যে পরিমাণ টাকা লাগবে, সেটা হতে পারে ১০ হাজার বা ১০ লাখ, আমি তোমাকে দেব।

তিনি বলেন, বাবার জন্য নির্দিষ্ট মাস বা টাকার নির্দিষ্ট পরিমাণ নয়, বাবার জন্য যেকোনো সময় জীবনও দিতে হতে পারে। এমনও হওয়া উচিত প্রকৃত সন্তানের আচরণ।

‘আমার অতিরিক্ত রাগের কারণে আজ এই অধঃপতন’

তাশরীফের বাবা বলেন, পরিবারে রাগ-গোস্বা হতেই পারে। কিন্তু আমার অতিরিক্ত রাগের কারণে আজকে আমার এই অধঃপতন। আমি যদি ভিডিওতে না আসতাম, তাহলে ঘটনা এত দূর গড়াত না। কিছু মানুষ আমাকে প্রলোভন দেখিয়েছে। তাদের নাম আমি বলতে চাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ বলেছেন, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরতে পারিনি। আমি যদি আল্লাহর এই নির্দেশ মান্য করতাম, আমাকে যে ইলম আল্লাহ দিয়েছেন, তা মেনে চলতাম, তাহলে আমার জীবনে আরও উন্নতি হতো। কিন্তু কিছু মানুষের প্রলোভনে পড়ে ভিডিওতে এসে মহাঅন্যায় করে ফেলেছি।

ছেলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে এমন এক সন্তান দিয়েছেন, যার চেহারা, কণ্ঠ, কথা বলা, আচার-আচরণ- সব দিকেই আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। আল্লাহ তাকে বিশেষ কুদরতে তৈরি করে আমাকে দান করেছেন। কিন্তু আমি তার মূল্য বুঝিনি। এটা আমার বড় ব্যর্থতা। জীবনে বড় ভুল করেছি। মানুষও আমাকে ছি ছি করে- এমন একটা সন্তান, আর তুমি তার বিরুদ্ধে কথা বলো!

তাশরীফের বাবা জানান, তার স্ত্রী ছেলের বিষয়ে তাকে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, আজকে যখন আমি বাড়িতে গেলাম, আমার ওয়াইফ তার সৎমা হওয়া সত্ত্বেও বলল, তোমার সন্তান আজকে তোমাকে না দেখলেও পাঁচ বছর পরে হলেও তোমার পাশে দাঁড়াবে। এই সন্তানের বিরুদ্ধে তুমি কথা বলো কেন? কারণ কী? আজকে তোমার কোনো বিপদ হলে তো সেই আসবে, আর কেউ আসবে না। আমি তোমার ভাতই খাব না।

তিনি বলেন, তার এই কথা শুনে আমার টনক নড়ে গেছে। যে কিনা তার উদরের সন্তান না, তাকে নিয়ে সে কত ভাবছে। অথচ আমার ঔরসে জন্ম নেওয়া সন্তান সম্পর্কে আমি কত কী বলে ফেলেছি! তাহলে আমি কোথায়, আর সে কোথায়!

এসব ভেবে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি জানিয়ে তাশরীফের বাবা বলেন, তাই ভাবলাম, টাকা বড় কথা না। আমি দোয়া করি, আমার ছেলে যেন আরও বড় হয়।

দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে এমন একটা নেক সন্তান দান করা সত্ত্বেও আমি শয়তানের চক্করে পড়ে এমন একটা কাজ করে ফেলেছি। তাই আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে আরও উচ্চ মাকাম দান করেন। আর আমিও যেন আমার সন্তানের বিরুদ্ধে আর কোনো দিন কোনো ধরনের কথা না বলি, আল্লাহ আমাকে সেই তাওফিক দিন। আমাকে যেন বড় শয়তানে ধরেছে, আল্লাহ যেন আমাকে সেই শয়তান থেকে হেফাজত করেন।