...|...|...

সোশ্যাল মিডিয়া

এনসিপি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে: আব্দুল কাদের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:০২
Shares
এনসিপি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে: আব্দুল কাদের

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তার দাবি, বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদ না করে এনসিপি মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আব্দুল কাদের লিখেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের ধ্বজাধারী এনসিপির রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না আর, বলার প্রয়োজন মনে করি না। তবে ইতিহাসের দায়ে কিছু বিষয়ে নোকতা দিয়ে রাখা জরুরি।

তিনি লিখেন, দেশে একটা মানুষ মারা গেছে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার মরদেহ দাফন করতে দিচ্ছিল না, মব করে তার জন্য খোঁড়া কবর জোরপূর্বক ভরাট করে ফেলছে। ১৭ ঘণ্টা পরে তার বৃদ্ধা বোন আর মেয়ে রাতের আঁধারে মোবাইল ফোনের আলোতে প্লেট দিয়ে মাটি খুঁড়ে তাকে দাফন করেছে! এমন অমানবিক ঘটনার পরে এনসিপি সাংগঠনিকভাবে একেবারে নির্বিকার, নির্লিপ্ত ছিল। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি তো দূরে থাক; কোনো একজন নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যন্ত একটা টু শব্দ করে নাই। মৃত ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে। মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ওউন করেন। এই তাদের ওউন করার নমুনা!

স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার সময়ে মন্দির প্রাঙ্গণে মন্দিরের অবশিষ্ট ইট ব্যবহার করে মাংস রান্নার ঘটনায় হ্যাডম দেখিয়ে পালটা গরু ভোজের আয়োজনের নেতৃত্বে ছিল এনসিপির ছাত্রসংগঠন- ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব! সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের আয়োজক তাহলে কারা? অথচ ছাত্র শক্তি-শিবির এবং মজলিসের এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্রেডিট নাকি বিরোধী দলের; সরকারের না। 

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে নারীকে ফ্লাইং কিক দেওয়া থেকে শুরু করে জামায়াত নেতা গাজী নজরুলের বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়ে জীবন দেওয়া সেই অসহায় তরুণী, নিপীড়িত নির্যাতিত এমন কোনো নারীর পক্ষে এনসিপি নারী নেতৃত্ব কিংবা দলীয় নেতারা টু শব্দ করেনি, ভিক্টিমদের পাশে দাঁড়ায়নি; তারা রাজনৈতিক কারণে আন্দোলন করেছিল হাতিয়ায় শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ার জেরে ধর্ষণের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার ঘটনায়! অথচ তাদের নতুন বন্দোবস্তে নাকি নারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টা অগ্রভাগে। 

মাদ্রাসায় এতো এতো শিশু বিকৃত যৌনলালসার শিকার হচ্ছেন, এ ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের মুখে কোনো রা নেই!

আব্দুল কাদের বলেন, জ্বি, এটাই হচ্ছে জামায়াত পরিচালনাধীন এনসিপির মধ্যপন্থি রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর অধিকার রক্ষায় অঙ্গিকারবদ্ধ এবং সর্বোপরি নতুন বন্দোবস্তের নমুনা।