...|...|...

স্বাস্থ্য

কিট সংকটে বন্ধ কিডনির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, প্রধানমন্ত্রী-স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:২৭
Shares
কিট সংকটে বন্ধ কিডনির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, প্রধানমন্ত্রী-স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

নিজের বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ডোনারের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাংবাদিক নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল। তার দাবি, প্রয়োজনীয় কিটের সংকটে দেশের কোথাও করানো যাচ্ছে না DTPA Renogram with Split Function & GFR পরীক্ষা। এতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষাটি দ্রুত চালু করা, বন্ধ থাকার কারণ প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন এই সাংবাদিক।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে চিঠিটি প্রকাশ করেন নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল। এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ বিষয়ে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠিতে জুয়েল জানান, তার বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ডোনারের একটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। কিন্তু পরীক্ষাটি করাতে না পারায় তারা সমস্যায় পড়েছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু রোগী নয়, তাদের স্বজনেরাও মানসিক চাপ, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা ও আর্থিক দুর্ভোগের মুখে পড়েন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, DTPA Renogram with Split Function & GFR পরীক্ষা কিডনির কার্যক্ষমতা, দুই কিডনির পৃথক কার্যক্ষমতা এবং গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট (GFR) মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কিডনি দাতা মূল্যায়নেও চিকিৎসকেরা এ পরীক্ষার প্রয়োজন অনুভব করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি জানতে চান, পরীক্ষাটি বন্ধ থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং এটি আবার চালুর বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না।

চিঠিতে তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষাটি বন্ধ থাকার কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ, প্রয়োজনীয় কিট ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ, পুনরায় চালুর সময়সীমা ঘোষণা এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষাটি চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা।

এ ছাড়া পরীক্ষা চালু না হওয়া পর্যন্ত রোগীরা কোথায় এটি করাতে পারবেন, বিকল্প ব্যবস্থা কী এবং সম্ভাব্য খরচ কত- সেসব তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন।

চিঠির শেষাংশে জুয়েল বলেন, তার উদ্দেশ্য কাউকে দোষারোপ করা নয়; বরং সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বন্ধ থাকায় যেন কিডনি রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ধাপ আটকে না যায়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।