ফরিদপুরের নগরকান্দায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তালমা ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গহেরপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে শিকদার ও মাতুব্বর গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মাতুব্বর গ্রুপের দাবি, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় এক ইঞ্জিনিয়ারের বাগানের কাছে মিরাজ শিকদারের ওপর পূর্ববিরোধের জের ধরে হামলা চালানো হয়। তাদের অভিযোগ, মোসলেম শিকদারের ছেলে উচমান শিকদার ও স্থানীয় বিএনপি নেতা খাইরুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন এ হামলা চালান। পরে শিকদার গ্রুপের লোকজন মাতুব্বর গ্রুপের কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় মাতুব্বর গ্রুপের মিরাজ শেখ (৫২), মুরাদ শেখ (৫০), ফরহাদ শেখ (৪৮), ১০ বছরের শিশু আজিম শেখ, রনি শেখ (১৭), সাথী বেগম (৩৬) ও রেজাউল মাতুব্বর (৪৫)সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিকদার গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাতুব্বর ও সরদার গ্রুপের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফরিদ শিকদার (৪৫), রাকিব শিকদার (২৫), সালমান শিকদার (২০), হামিদুল শিকদার (২৪) ও সারোয়ার শিকদার (৬০) রয়েছেন। তাদেরও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ।
তিনি জানান, সংঘর্ষের পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



