...|...|...

খেলা

আজ রাতেই ব্যালন ডি’অরের ঘোষণা, ১৯ বছরেই ইতিহাসের অপেক্ষায় ইয়ামাল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:১০ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭
Shares
আজ রাতেই ব্যালন ডি’অরের ঘোষণা, ১৯ বছরেই ইতিহাসের অপেক্ষায় ইয়ামাল

লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন  ইয়ামাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার সাফল্য তার দাবিকে শক্তিশালী করেছে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে  লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামাল, এমবাপ্পে ও কেইনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাল মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার কাছে এমবাপ্পে ও আমি আমরাই বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়।”

তিনি আরও বলেন, “সত্যি বলতে, আমার মনে হয় বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়তো আমরা দুজনই। আর এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, তাতে আমার মনে হয় ব্যালন ডি’অর আমারই প্রাপ্য।” ইয়ামালের লক্ষ্য, ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে ব্যালন ডি’অর জেতা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হওয়া। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

বিশ্বকাপ ও লা লিগা জয়ের সাফল্য

২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ জেতেন ইয়ামাল। ১৯তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন পর উত্তর আমেরিকায় এই সাফল্য পান তিনি। এর আগে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার শিরোপাও জিতেছেন এই উইঙ্গার। স্প্যানিশ সুপার কাপজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপে চোটের প্রভাব থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী আলো ছড়াতে পারেননি ইয়ামাল। আসরে তার গোল ছিল একটি, পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করান। তবে ক্লাবের হয়ে পারফরম্যান্স ছিল আরও উজ্জ্বল। লা লিগায় ৩৮ ম্যাচে ২২ গোল করার পাশাপাশি ১৫টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। বার্সেলোনার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

বিশ্বকাপ ও ঘরোয়া লিগের শিরোপা এই দুই বড় অর্জন ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ইয়ামালের দাবিকে শক্তিশালী করেছে। তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের বিচারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে তার ব্যবধানও স্পষ্ট।

আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাল, পাশে ফ্লিক

ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ইয়ামালের সাথে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। কয়েক দশকের মধ্যে এবারের লড়াইকে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইয়ামাল অবশ্য এমবাপ্পেকেই নিজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন।

ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের প্রত্যাশা জানানোর বিষয়টি নিয়ে বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। তবে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। ফ্লিক বলেন, “সে অসাধারণ। আর এটা তার ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ। আমি চাইতাম না সে এভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুক, কিন্তু সে বলছে। তার আত্মবিশ্বাস আছে সে ব্যালন ডি’অর জিততে চায়।”

এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৫ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের উসমান দেম্বেলের কাছে হেরে রানারআপ হয়েছিলেন তিনি। এবার শিরোপা জিতে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চান এই তরুণ।

গোলের হিসাবে এমবাপ্পে ও কেইন এগিয়ে

দলীয় সাফল্যে ইয়ামালের অর্জন উল্লেখযোগ্য হলেও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এমবাপ্পে ও কেইন এগিয়ে রয়েছেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান ছিল ৪৫টি ২৫ গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট। বিপরীতে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে করেছেন ৫৮ গোল, পাশাপাশি ১৩টি গোলে সহায়তা করেছেন।

লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি এক আসরে ২২ গোল করে সর্বকালের গোলের রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ৩৩ বছর বয়সী কেইনের গোলসংখ্যা ছিল আরও বেশি। গত মৌসুমে ৭৩ গোল করেছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের পর কোনো ফুটবলারের এটাই সেরা গোলসংখ্যা।

দলীয় শিরোপা ইয়ামালের দাবিকে শক্তিশালী করলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে ও কেইনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ হবে না। তবে ইয়ামালের মতে, শুধু গোলসংখ্যা দিয়ে ব্যালন ডি’অরের যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “ব্যালন ডি’অর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পাওয়া উচিত, ব্যস।” এরপর তিনি যোগ করেন, “এমন কাউকে নয়, যে ৮০টি গোল করেছে। কারণ, কেউ ৮০টি গোল করলে সে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পাবে।” কেইনকে ইঙ্গিত করে বলা এই মন্তব্যের পর ইয়ামাল আরও বলেন, “এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, যা মানুষ বুঝতে পারে না।”

রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ

ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারণ করবেন ১০০টি দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত জুরি। তাদের ভোটেই ঠিক হবে, ইয়ামাল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হতে পারবেন কি না। বর্তমানে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে এই পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন।

বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার কোপা ট্রফি দুইবার জিতেছেন ইয়ামাল। এবার তার লক্ষ্য আরও বড় ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর নিজের করে নেওয়া। বিশ্বকাপ ও লা লিগা জয়ের সাফল্য তাকে আশাবাদী করলেও শেষ পর্যন্ত জুরি সদস্যদের ভোটই নির্ধারণ করবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না।