বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোতে এবার থাকছে সর্বোচ্চ ৪০টি ক্যামেরা। ম্যাচে দুই দলের তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো আরও নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ টেলিভিশন সম্প্রচার পরিকল্পনা। ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার এক দিন আগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিতে ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তির ক্যামেরা ও ধীরগতির রিপ্লে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে ক্যামেরাগুলো বসানো হবে। সম্প্রচার ব্যবস্থায় থাকবে আল্ট্রা-হাই-ডেফিনিশন ভিডিও, স্লো-মোশন রিপ্লে এবং খেলোয়াড়দের আলাদাভাবে অনুসরণ করার প্রযুক্তি।
কেন প্রয়োজন ৪০টি ক্যামেরা?
স্পেনের শীর্ষ ফুটবল লিগ লা লিগা, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচকে ‘ক্যাটাগরি এ’ হিসেবে বিবেচনা করে। এ ধরনের ম্যাচ সম্প্রচারে কমপক্ষে ২২টি ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে।
তবে এল ক্লাসিকো কিংবা মাদ্রিদ ডার্বির মতো বড় ম্যাচকে ‘এ প্লাস’ শ্রেণিতে রাখা হয়। এসব ম্যাচের জন্য নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৫ থেকে ৪০টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। কোন ক্যামেরা কোথায় থাকবে এবং কোন দিক থেকে দৃশ্য ধারণ করবে, সেটিও আগে থেকে ঠিক করা হয়।
ক্যামেরার অবস্থান ও ধারণ করা দৃশ্যের তথ্য রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) দলের কাছে সরবরাহ করা হয়। এর ফলে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় কোন কোন দৃশ্য পাওয়া যেতে পারে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পারেন।
রিয়াল-সেভিয়া ম্যাচের বিতর্কের পর বাড়তি নজরদারি
এল ক্লাসিকোর সম্প্রচার প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও সেভিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিতর্কের পর। ওই ম্যাচের ২৪তম মিনিটে রিয়ালের মিডফিল্ডার আরদা গুলের ও সেভিয়ার পেকে ফার্নান্দেজের মধ্যে বলের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ম্যাচটিতে ২৬টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হলেও কোনো কোণ থেকেই দুই খেলোয়াড়ের সংস্পর্শের ধরন স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। ফলে বিতর্কিত ঘটনার সঠিক চিত্র পেতে টেলিভিশন সম্প্রচারে পর্যাপ্ত ক্যামেরা ও উপযুক্ত কোণ থাকা কতটা জরুরি, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ালেই প্রতিটি ঘটনা পরিষ্কারভাবে ধারণ করা সম্ভব, এমন নিশ্চয়তা নেই। ক্যামেরার অবস্থান, লেন্সের দিক এবং ঘটনার সাথে ক্যামেরার দূরত্বের ওপরও দৃশ্যের মান নির্ভর করে।
কী কী দৃশ্য থাকবে সম্প্রচারে?
এল ক্লাসিকোয় দূরের দৃশ্য ধারণের উপযোগী লেন্সের পাশাপাশি সিনেমাটিক লেন্সও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ফুল এইচডির তুলনায় উন্নত ৪কে রেজল্যুশনে দৃশ্য ধারণ করা হবে। এতে টেলিভিশন পরিচালক ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো বিভিন্ন কোণ থেকে বেছে দেখাতে পারবেন।
গোল, বিপজ্জনক আক্রমণ এবং পেনাল্টি এলাকার ভেতরের সংঘর্ষের মতো মুহূর্তগুলো আরও বিস্তারিতভাবে পুনরায় দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে। দুই গোলপোস্টের পেছনেও ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি দ্রুতগতির দৃশ্য ধারণ এবং সেগুলো ধীরগতিতে দেখানোর জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে।
এল ক্লাসিকোয় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবারই প্রথম নয়
এল ক্লাসিকোয় উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহারের নজির রয়েছে আগেও। ২০১৭ সালের একটি ম্যাচে স্প্যানিশ লিগ ৪০টি ক্যামেরা ব্যবহার করেছিল। এর মধ্যে ক্রেনে বসানো ও হেলিকপ্টারে বহন করা ক্যামেরাও ছিল। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গতিবিধি অনুসরণে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশেষ স্লো-মোশন ক্যামেরা। ওই সম্প্রচার কার্যক্রমে আলোকচিত্র, পরিচালনা ও টেলিভিশন প্রযোজনার সাথে যুক্ত ৪০০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করেন।
২০১৬ সালে এল ক্লাসিকোয় ৩৬০ ডিগ্রি রিপ্লে প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থানে বসানো ক্যামেরার ছবি একত্র করে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য তৈরি করা হতো। এতে প্রচলিত ক্যামেরায় পাওয়া কঠিন কিছু কোণ থেকেও ভার্চ্যুয়াল দৃশ্য দেখানো সম্ভব হয়।
পরবর্তী সময়ে ৩৮টি উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি ব্যবহার করে স্টেরিওস্কোপিক দৃশ্য তৈরির প্রযুক্তি আরও উন্নত করা হয়। এর মাধ্যমে দর্শক খেলোয়াড়ের কাছাকাছি ভার্চ্যুয়াল অবস্থান থেকে ঘটনার দৃশ্য দেখতে পারেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্টেডিয়াম ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩২, ৩৪ কিংবা ৩৮টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে সিনেমাটিক শট, আকাশ থেকে দৃশ্য ধারণের ক্যামেরা, ড্রোন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং সরাসরি ম্যাচের তথ্য দেখানোর প্রযুক্তি।




