ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সংস্থাটির ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিসিবির ভর্তুকি কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চলতি অর্থবছরে টিসিবির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ফলে গত বছরের তুলনায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এখনো পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। উৎপাদক পর্যায় থেকে শহর বা রাজধানীর খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছানোর পর অনেক ক্ষেত্রে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়। আবার সাময়িক সরবরাহ ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে টিসিবির পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
টিসিবি জানায়, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রমের আওতায় ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন পেমেন্ট, অল-ইন-ওয়ান পিওএস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে পণ্য বিতরণ ও লেনদেন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রচলিত কার্ডের পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমেও উপকারভোগীরা টিসিবির সেবা নিতে পারবেন। ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোডের মাধ্যমে উপকারভোগীর পরিচয় ও পণ্য পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হবে। ফলে কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারিত পণ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ডিলারদের আবেদন, তথ্য সংরক্ষণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করা হবে। প্রয়োজনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচনের সুযোগ থাকবে। অনলাইন পেমেন্ট কালেকশন চালুর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনেও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে জানিয়েছে টিসিবি।
অল-ইন-ওয়ান পিওএসের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি, বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় কত পণ্য বিক্রি ও বিতরণ হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি অনিয়ম শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
টিসিবি আরও জানায়, এআইভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীদের সেবা ও তথ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




