...|...|...

জাতীয়

নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি করবে টিসিবি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০৩ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০৪
Shares
নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি করবে টিসিবি

ছবি: সংগৃহীত

ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিসর আরও বাড়াতে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি সম্প্রসারণ

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়ার পাশাপাশি চা বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার অনুমোদনও ইতিমধ্যে মিলেছে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আটা এবং বাজার চাহিদা যাচাই সাপেক্ষে আরও নতুন পণ্য যুক্ত করার কাজ চলছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে সরকারের ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে চায় টিসিবি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সংস্থাটি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে।

গ্রাহক সংখ্যা ও বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা
বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে এবং আগামী অর্থবছরে এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এক কোটি গ্রাহকের কাছে এই সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভার পৌঁছানো সম্ভব হলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভর্তুকির পণ্যের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না

নতুন পণ্য যুক্ত হলেও সরকারের ভর্তুকি মূল্যে প্রচলিত যে পণ্যগুলো (যেমন তেল, ডাল, চিনি) দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগের নির্ধারিত দামেই সেসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। নতুন বা অতিরিক্ত পণ্যগুলো কেনা বা না কেনার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোক্তাদের নিজেদের ওপর থাকবে। তবে নতুন পণ্যগুলোও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা হবে।

কার্যক্রমে আধুনিকায়ন ও ব্যয় সংকোচন

পরিচালন ব্যয় ও ভর্তুকির বোঝা কমাতে টিসিবি নানা কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে এখন নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম সুদের ব্যাংক সেবা গ্রহণ, এপিআই (API) প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা এবং আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পরিবহন ও অন্যান্য অপারেশনাল ব্যয় কমাতে সাহায্য করছে।

পেঁয়াজ ও আলু কেনাবেচার নীতি

পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিত সংগ্রহ করে না টিসিবি। বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পণ্য কেনা হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় নতুন করে পেঁয়াজ কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিসিবি মনে করছে, ধাপে ধাপে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে ভোক্তারা এক ছাদের নিচে বা একই কেন্দ্র থেকে তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে টিসিবিকে একটি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।