আইন পেশার সনদ নিয়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ না করে চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন নিষ্পত্তি না করার অভিযোগে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রিটকারী আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে।
এর আগে, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে চিঠি দেন আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। তবে সেই আবেদনে সাড়া না পেয়ে গত ১২ আগস্ট তিনি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশেরও জবাব না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
রিটকারীর আবেদনে বলা হয়, আইন পেশা একটি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এ পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কিন্তু আইন পেশার সনদ নিয়েও অনেকে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কিছু আইনজীবী ঠিকাদারি, পরিবহন, গাড়ির শোরুম, ইট-বালু-সিমেন্টের ব্যবসা, মোবাইলের ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ এজেন্টের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করে চাকরি করছেন। আবার অনেকে আইন পেশার সনদ সমর্পণ না করেই সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, ওষুধের ফার্মেসি এবং মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিটকারীর ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড বার কাউন্সিলের আইন ও বিধির লঙ্ঘন এবং এর ফলে আইন পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন এবং পরবর্তী আইনি নোটিশের পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।


