...|...|...

আইন ও আদালত

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:১৭
Shares
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে হোটেল বা বাসায় ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ, পরে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এমন অভিযোগে একটি হানিট্র্যাপ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) ও সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। পুলিশের ভাষ্য, জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান চক্রটির মূল হোতা। প্রীতম তার ভাগিনা এবং সাবরিন তার ভাগিনার স্ত্রী।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, চার ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর চক্রটিকে শনাক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তবে চক্রের সদস্যরা নিয়মিত বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। পাশাপাশি ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

পরবর্তীকালে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর তুরাগ থানা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়।

ডিবি প্রধান জানান, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পরিচয় ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক পুরুষদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। তাদের লক্ষ্য থাকতেন বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী ব্যক্তিরা। সম্পর্কের একপর্যায়ে কৌশলে ভুক্তভোগীদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলে আসতে প্রলুব্ধ করা হতো।

ভুক্তভোগীরা সেখানে পৌঁছালে চক্রের পুরুষ সদস্যরা তাদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন। একই সময়ে নারীদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ কিংবা ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন চক্রের সদস্যরা।

ডিবি প্রধান আরও জানান, একবার টাকা আদায়ের পরও চক্রটি থেমে থাকত না। ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আরও টাকা আদায় করা হতো।