যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়লেও, এই চাপ দেশটির অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারবে না বলে দাবি করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। বুধবার (৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের দাবি, জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের বিপরীতে ডলারের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সফল হতে দেবে না তেহরান।
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি বলেছেন, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে কোনো সংকট নেই। বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
হেম্মাতি বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়েনি এবং পড়বেও না। তার দাবি, অর্থনীতি ধসে পড়ার নানা বক্তব্য মূলত মানসিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টা।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ কিংবা আলোচনার প্রস্তাব—যেভাবেই চাপ প্রয়োগ করুক না কেন, এর অন্যতম লক্ষ্য ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করা। তাই হুমকি, চাপ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখেও তারা অবস্থান থেকে পিছু হটবে না বলে জানিয়ে আসছে।
এদিকে, ইরানের রিয়াল সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়েছে। একই সময়ে জুলাইয়ে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।
তবে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন হেম্মাতি।


