৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। একই সময়ে, ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নেসেট নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করেছেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা ভ্রমণ সতর্কবার্তায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, ইরান ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, হামাস এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা জিহাদি সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করে।
সতর্কবার্তায় বুধবার ইসরায়েলি নাগরিকদের জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিনাই উপদ্বীপও রয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের জনাকীর্ণ এলাকায় হিব্রু ভাষায় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে, বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ না করতে বলা হয়েছে, যাতে বোঝা যায় তারা ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার প্রথম ও দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরেও চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, ২৭ অক্টোবরের নেসেট নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার তেল আবিবে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বৈঠকে আইডিএফের চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির, পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভি ও শিন বেট প্রধান ডেভিড জিনি অংশ নেন।
যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, বৈঠকে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান এবং জাতীয়তাবাদী অপরাধ মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে হামাস ভোটের আগেই ইসরায়েলে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের কারণে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেন, বিদেশি বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইসরায়েলের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টাও চলছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
লিভনে বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কেবল দেশটির নাগরিকরাই নিতে পারেন।


