তুরস্কে নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গাজার শিশুদের নিয়ে পরিবেশিত একটি সমবেত সংগীত শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, ‘সভ্য মানুষের ছদ্মবেশধারী বর্বররা ভুলে গেলেও, আমরা ইউফ্রেটিস নদীর ওপারে থাকা শিশুদের কথা কখনোই ভুলব না।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
‘ইউফ্রেটিস নদীর ওপারে যাদের আমরা ভুলে গেছি’ শিরোনামের ওই সংগীতটি গাজার জীবন ও শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত শিশুদের উদ্দেশে নিবেদিত ছিল। এরদোয়ান বলেন, গত তিন বছরে গাজার বহু শিক্ষার্থী তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন ও বন্ধুদের কবর দিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের বাড়িঘর, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা হয়েছে। এরপরও তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সংকল্প থেকে সরে আসেনি।
এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা ইউফ্রেটিস নদীর ওপারে থাকা শিশুদের কথা কখনোই ভুলব না। আমরা সবসময় তাদের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে থাকব।’ একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান তিনি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়া ৭৪ হাজার মানুষের আত্মার শান্তি কামনা করছেন তিনি। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলেও দাবি করেন এরদোয়ান।
হামাসের ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’-এর পর ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের নতুন পর্ব শুরুর তৃতীয় বর্ষপূর্তি বুধবার। এর পর গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়। তিন বছরে সেখানে হতাহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে গত বছর থেকে কার্যকর থাকা এই যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করেছে এবং এতে অন্তত ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও এরদোয়ান গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।


