যে বয়সে শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেই বয়সের কিশোর-কিশোরীরাই এখন ফ্রান্সের রাজপথে। কয়েকটি স্কুলে শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও। আন্দোলন এখন শুধু স্কুলের সমস্যা নয়, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট নিয়ে বড় জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু কেন রাস্তায় নামছে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা?
তাদের মূল অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার দৈনন্দিন সংকট নিয়ে। অনেক স্কুলে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, শিক্ষক সংকট এবং কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে সময়মতো বিকল্প শিক্ষক না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী স্কুল ভবনের পানি পড়া, অতিরিক্ত গরম, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট এমনকি ইঁদুরের উপদ্রবের কথাও জানিয়েছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ। ক্লাসের পাশাপাশি বাড়িতে পড়াশোনা, দীর্ঘ যাতায়াত এবং পরীক্ষার ফল নিয়ে চাপ অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। 'Parcoursup' নামের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থাও তাদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, তাদের ভবিষ্যৎ ক্রমেই নম্বর ও প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে বেশি ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, একই দেশের শিক্ষার্থী হয়েও সব স্কুলে সমান সুযোগ নেই। কোথাও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, আবার কোথাও মৌলিক অবকাঠামোও পর্যাপ্ত নয়। ফলে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে শিক্ষা খাতে আরও অর্থ ও জনবল বরাদ্দ।
এই ক্ষোভ এখন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে তাদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট দূর করা, অনুপস্থিত শিক্ষকের দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, স্কুল ভবন সংস্কার, পড়াশোনার চাপ কমানো এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য কমানো।
আন্দোলন যত বড় হয়েছে, সংঘাতও তত বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আন্দোলন শুরুর পর ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১ হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

