কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক শাহরিয়া আনাসের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনাসকে হেফাজতে নেয় এসআরবি-১১। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম রবিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, আটক হওয়া অন্য অভিযুক্তদের সাথে আনাসের যোগাযোগের একটি তথ্য তাদের কাছে ছিল। এ কারণে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবার ডাকা হতে পারে।
আনাস হেফাজতে নেওয়ার পর তার একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি কিশোর অপ্রতীমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। এরপর অনেকেই দাবি করেন, অপ্রতীম হত্যার সাথে আনাসের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কথা বলেন প্রতিবেদক। এর আগে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনেও আনাসকে আটকের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চান। তখন পুলিশ জানায়, তাদের পক্ষ থেকে আনাসকে আটক করা হয়নি। পরে এসআরবির সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, শনিবার হেফাজতে নেওয়ার পর রবিবার সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তার সাথে ঘোরাফেরা করা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
তুহিন আটকের পর সদর সার্কেল পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাইন বিল্লাহও জানিয়েছিলেন, আনাস হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীম হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনের কারও বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড বা পিসিপিআর নেই।


