...|...|...

সারাদেশ

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ ফেলে পালাল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৫ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪০
Shares
অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ ফেলে পালাল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

ছবি: টাইমস টুডে

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়ে গেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরিবারের অভিযোগ, গাজীপুরের কোনাবাড়ির ভাড়া বাসায় স্বামীর নির্যাতনে আফরোজার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রবিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ির ভাড়া বাসায় আফরোজার মৃত্যু হয়।

নিহত আফরোজা চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সাথে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের সুবাদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে দীন ইসলাম প্রায়ই আফরোজাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই মধ্যে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন আফরোজা। সর্বশেষ শনিবার রাতে বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান তিনি। এ সময় আফরোজা বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এরপরই ফোনটি কেটে যায়।

কিছুক্ষণ পর দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য টাকাও দাবি করেন তিনি। টাকা পাঠাতে দেরি হলে তারা আফরোজার মৃত্যুর খবর জানান।

সোমবার সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে করে গাজীপুর থেকে আফরোজার লাশ তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়দের দাবি, লাশটি টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে গাড়িটি চলে যায়। ওই সময় স্বামী বা তার পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে ছিলেন না।

স্থানীয়রা জানান, আফরোজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তার স্বামী দীন ইসলাম কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা দাবি করেছিল। আমরা টাকা দিতে পারিনি। পরে তারা লাশ এনে বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়ে গেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, লাশের সাথে পাঠানো ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ওই কাগজে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।