পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একে একে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের অধিকাংশের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও হাত-পায়ে খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে অন্তত ২০ ছাত্রীকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে পাঠদান চলাকালে দশম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে সহযোগিতা করতে সহপাঠীরা এগিয়ে এলে তাদের মধ্যেও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হতে শুরু করে।
একপর্যায়ে অসুস্থতার ঘটনা পুরো বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে কয়েকজন ছাত্রী মাথা ঘুরে পড়ে যায়। কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে এবং হাত-পায়ে খিঁচুনি দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি দেখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে গুরুতর অসুস্থদের অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্নভাবে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোর্শেদা বেগমও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মোর্শেদা বেগম বলেন, যেই অসুস্থ ছাত্রীর কাছে গেছে সেই অসুস্থ হয়েছে। আমিও মাথা ঘুরে পড়ে গেছি।
তিনি আরও বলেন, অনেক ছাত্রীরা পথে, আবার কেউ কেউ বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিংকি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, এতটা ভয় আগে কখনও পাইনি। ক্লাসের মধ্যে একজনের পর একজন মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। আর হাত-পা খিঁচুনি দিয়ে শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থাও হয়েছে অনেকের। কিন্তু ভৌতিক না অন্য কিছুর জন্য এটা হয়েছে তা জানি না।
বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নেছার উদ্দিন বলেন, হঠাৎ এতগুলো বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা দিশা হারিয়ে ফেলেছি। কাকে রেখে কাকে উদ্ধার করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
তিনি বলেন, দশম শ্রেণির সানজিদা প্রথম অসুস্থ হয়। এরপর পুরো স্কুলে ছড়িয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অসুস্থদের অধিকাংশই ছাত্রী। শ্বাসকষ্ট ও হাত-পায়ে খিঁচুনির পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী কান্নাকাটি করতে থাকে। পরে অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে এসে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন।
খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশারফ হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তবে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার সাথে কোনো অলৌকিক ঘটনার সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মানিক মিয়া বলেন, এটি কোনো জিন-ভূতের ঘটনা নয়, মূলত হিস্টোরিয়া বা মানসিক রোগজনিত সমস্যা। এতে ভয়ের কিছু নেই। আক্রান্তদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও হাসপাতালে যায়। কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়েই আমরা হাসপাতালে উপস্থিত হই। কোনো বড় ধরনের শঙ্কার বিষয় নেই। আমাদের পুলিশ সদস্যরা এখনও হাসপাতালে রয়েছেন।


