গাজীপুরের শ্রীপুরে ৫৪ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ। জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে পাস করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।
মজনু কাইয়াঁ শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন কাইয়াঁর ছেলে। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি।
১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া মজনু ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে বরমী ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার।
কর্মজীবন ও সংসারের ব্যস্ততায় দীর্ঘ ৩২ বছর পড়াশোনার বাইরে থাকলেও শিক্ষাজীবন শেষ করার ইচ্ছা হারাননি মজনু। একপর্যায়ে ৫৪ বছর বয়সে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভর্তি হন গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে। ব্যবসা ও সংসারের দায়িত্ব সামলে শুরু করেন পড়াশোনা। অবশেষে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
মজনু কাইয়াঁ ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই সাফল্য এলাকায় অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
মজনু কাইয়াঁ জানান, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই তিনি অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার স্নাতকে ভর্তি হয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
ছেলের এই সাফল্যে আনন্দিত তার মা আনোয়ারা খাতুন। তিনি বলেন, ছেলে ভালো লেখাপড়া করছে, এটা সত্যিই গর্বের।
ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে শিক্ষা লাভ করা মানুষের অধিকার। মজনু একজন শিক্ষানুরাগী ও তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য। তার ফলাফলে আমরা গর্বিত।


