ভারতে পঞ্চাশ বছর আগের শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যেতে স্কুল পোশাকে সেজে এবং পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে নিজ বিদ্যালয়ে একত্রিত হয়েছেন একদল শৈশবের বন্ধু। ১৯৭৬ ব্যাচের বন্ধুদের এই পুনর্মিলনীর ভিডিওটি অনলাইনে ব্যাপক নস্টালজিয়া বা নস্টালজিক আবেগের জন্ম দিয়েছে, যেখানে দর্শকরা বন্ধুত্ব এবং পুরোনো স্মৃতিগুলো নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়া টুডের বরাত দিয়ে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রাকেশ নগর একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে ১৯৭৬ ব্যাচের বন্ধুরা তাদের শৈশবের সেই স্কুলটিতে পুনরায় একত্রিত হওয়ার মুহূর্তটি ধরে রেখেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই দলটি ফরমাল শার্ট ও ট্রাউজার পরে স্কুলে উপস্থিত হয়েছেন, যা তাদের পুরোনো স্কুল ইউনিফর্মের সাথে বেশ মিলে যায়। পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে এবং গলায় রঙিন ছোট বাচ্চাদের পানির বোতল ঝুলিয়ে তাদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন তারা ক্লাসে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত—পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, এবার তারা সবাই বয়স্ক মানুষ, যারা ৫০ বছর আগে ফেলে আসা একটি জায়গায় ফিরে এসেছেন।
স্কুলের গেট দিয়ে পা রাখার সাথেই যেন চোখের পলকে বছরগুলো উধাও হয়ে গেল। মুখে বিশাল হাসি নিয়ে বন্ধুরা ছুটে ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং যে জায়গায় তারা একসময় স্কুলজীবন কাটিয়েছিলেন, সেখানে একসাথে ফিরে আসার উল্লাসে মেতে উঠলেন। এরপর তারা শৈশবের কিছু খেলাধুলা ও কার্যক্রম পুনরায় জীবন্ত করে তোলেন। একপর্যায়ে দলটি ‘পিথু’ খেলায় মেতে ওঠে এবং কয়েক দশক আগের মতো হাসিখুশি ও আনন্দের সাথে একসঙ্গে খেলাধুলা করে। পরবর্তীতে তারা সারিবদ্ধ হয়ে পরিচিত সেই স্কুল প্রাঙ্গণের ‘ট্রেন’ নাচ পরিবেশন করে, একসাথে সামনে এগোতে থাকে এবং নিজেদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করে।
পুনর্মিলনী নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এক বন্ধু জানান, তারা প্রায়ই ভাবতেন যে সেই ‘সোনালী স্মৃতিগুলো’ আবার ফিরে পেলে কেমন হতো এবং অবশেষে তারা এটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, আমরা সবাই সেই একই স্কুলে পৌঁছেছি যেখানে আমরা হেসেছিলাম, খেলেছিলাম এবং সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। শৈশবে তারা যা করেছিলেন, সেগুলোর পুনরুত্পাদন করার বিষয়টি বর্ণনা করে তিনি ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, আমার ১৯৭৬ ব্যাচের শৈশবের বন্ধুরা।
এই পুনর্মিলনী দর্শকদের নস্টালজিক করে তুলেছে। একজন মন্তব্য করেছেন যে তারা এখনও তাদের নিজেদের স্কুল বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারেননি। আরেকজন বলেছেন যে ভিডিওটি দেখে তার ভালো লেগেছে, আর অন্য কেউ কেউ এই দলের আনন্দময় জীবনযাপন বজায় রাখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। ১৯৭৬ ব্যাচের বন্ধুদের জন্য এটি কেবল একটি পুনর্মিলনীর চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিল। কয়েক ঘণ্টার জন্য তারা একই গেট দিয়ে হেঁটেছেন, একই খেলা খেলেছেন এবং একসাথে হেসেছেন, তবে এবার তাদের দুজনের মাঝেই ছিল ৫০ বছরের জমানো স্মৃতি।


