ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও গতি ও গোলের ক্ষুধা ধরে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পেশাদার ফুটবলে ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা। তার ফিটনেস ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে কঠোর জীবনযাপন এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে রোনালদোর খাবারের তালিকায় এমন একটি পরিচিত পানীয় নেই, যা অনেকের কাছেই অবাক করার মতো। সেটি হলো দুধ।
রোনালদোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন তার সাবেক ব্যক্তিগত শেফ জর্জিও ব্যারোন। ব্যারোনের দাবি, অন্য প্রাণীর দুধ পান করার বিষয়টি পছন্দ করেন না রোনালদো। এ কারণে নিজের খাদ্যতালিকা থেকে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যারোন বলেন, ‘রোনালদোর খাবারে দুধ একেবারেই থাকে না। মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা অন্য প্রাণীর দুধ পান করে। বাছুরের মতো অন্য প্রাণীরা কয়েক মাস বয়সের পর আর দুধ পান করে না। প্রকৃতিতে এক প্রাণীর অন্য প্রাণীর দুধ পান করার নজির নেই। অথচ মানুষ ৩০, ৪০, ৫০, এমনকি ৬০ বছর বয়সেও দুধ পান করে। দীর্ঘদিন ধরে অন্য প্রাণীর দুধ পান করাকে প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী মনে করেন রোনালদো। এ কারণেই তার খাদ্যতালিকায় দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার নেই।’
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চললেও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেতন রোনালদো। তার সাবেক শেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালের নাশতায় অ্যাভোকাডো, ডিম ও চিনি ছাড়া কফি থাকে। মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকেও দূরে থাকেন তিনি।
রোনালদোর খাদ্যাভ্যাসে জটিল কোনো নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন ব্যারোন। বরং প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিগুণ ও ভারসাম্য বজায় রাখাই তার মূল লক্ষ্য।
দুপুরের খাবারে মুরগির মাংস কিংবা মাছের মতো চর্বিহীন প্রোটিনের সাথে প্রচুর শাকসবজি থাকে রোনালদোর। চাল ও গমজাতীয় খাবার সাধারণত এড়িয়ে চলেন তিনি। শাকসবজি থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার বড় অংশ সংগ্রহ করেন।
রাতের খাবারেও একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। হালকা খাবারের সাথে থাকে চর্বিহীন মাংস বা মাছ এবং শাকসবজি। খাবার তৈরির ক্ষেত্রেও পুষ্টিগুণ বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
দুধের পাশাপাশি মিষ্টি, রুটি, পাস্তা ও প্রক্রিয়াজাত শর্করাজাতীয় খাবার থেকেও দূরে থাকেন রোনালদো। তবে তার খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি ও উচ্চমানের প্রোটিনের ঘাটতি নেই।



