...|...|...

খেলা

লর্ডসের সেই স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে যেভাবে জড়িয়েছিলেন তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২৪
Shares
লর্ডসের সেই স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে যেভাবে জড়িয়েছিলেন তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত কলঙ্কজনক ঘটনা ২০১০ সালের লর্ডস স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি। পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ ও সালমান বাটের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে নো বল করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে প্রভাবিত করেছিলেন তারা।

২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত টেস্টে এ ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। পরে ম্যাচ গড়াপেটার সাথে সংশ্লিষ্টতার দায়ে তিন ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়।

ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন পাকিস্তান দলের সাথে যোগাযোগ রাখা ব্যবসায়ী মাজহার মজিদ। তিনি ক্রিকেটারদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং দলের খেলোয়াড়দের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। স্পনসর সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকায় ক্রিকেটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাও তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সাংবাদিক মাজহার মাহমুদ তখন ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনা অনুসন্ধান করছিলেন। একপর্যায়ে পাকিস্তান দলের ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তার কাছে মাজহার মজিদের সম্ভাব্য ফিক্সিংয়ের বিষয়ে তথ্য আসে। এরপর মজিদের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি।

প্রায় আট মাস ধরে চলে এই অনুসন্ধান। মাহমুদ নিজেকে একজন ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মজিদের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়ে ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব দেন। মজিদ তখন জানান, তার পরিচিত কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা এ ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারেন।

পরে তাদের মধ্যে দেড় লাখ পাউন্ডের চুক্তি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচের নির্দিষ্ট সময়ে কয়েকটি নো বল করার কথা ছিল। এর মাধ্যমে বেটিংয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লর্ডস টেস্টে মোহাম্মদ আসিফ একটি এবং মোহাম্মদ আমির দুটি নো বল করেন। অধিনায়ক সালমান বাটের ইঙ্গিতেই তারা এমনটি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে তিন ক্রিকেটারের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ আমির পাঁচ বছর, মোহাম্মদ আসিফ সাত বছর এবং সালমান বাট ১০ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আমির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও পরবর্তী সময়ে অবসর নেন। এই কেলেঙ্কারি পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।