ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দের মধ্যেও ক্লাব ক্যারিয়ারের বড় একটি স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে হ্যারি কেইনের। ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেলেও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি ইংল্যান্ড অধিনায়কের। সেই আক্ষেপ থেকেই ব্যালন ডি’অরের বদলে ইউরোপসেরার ট্রফি বেছে নিতে চান তিনি।
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানান ৩৩ বছর বয়সী কেইন। সেখানে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জয়ের আনন্দ তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কেইনের ভাষায়, ‘আমরা দলগত ট্রফির জন্যই ফুটবল খেলি। আমাদের এই খেলার দলগত দিকটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্যালন ডি’অর জয়ের অনুভূতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহের ব্যালন ডি’অর আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অনুভূতি। কিন্তু দলের সাথে মুহূর্তগুলো, ক্লাবের সাথে উদযাপনবায়ার্নের সাথে চ্যাম্পিয়নস লিগ উঁচিয়ে ধরা হতে পারে দুর্দান্ত অনুভূতি।’
ব্যালন ডি’অর ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হলে ইংল্যান্ড অধিনায়কের উত্তর ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমি চ্যাম্পিয়নস লিগ বেছে নিব, কিন্তু আমার দুটো পাওয়ারই সুযোগ আছে। দেখা যাক কী হয়।’
ব্যক্তিগত স্বীকৃতির গুরুত্ব স্বীকার করলেও দলীয় সাফল্যের প্রতি নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন কেইন। তার কথায়, ‘ব্যালন ডি’অর একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন, এটা আমাকে আরও বড় পরিসরে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো টুর্নামেন্টের বড় ফাইনালেও খেলতে চাই এবং সতীর্থদের সাথে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর স্বাদ পেতে চাই।’
গত সপ্তাহে লন্ডনে আয়োজিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতেন কেইন। এর মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর প্রথম ইংরেজ হিসেবে এই স্বীকৃতি পান তিনি। সব মিলিয়ে মাইকেল ওয়েন, স্যার স্ট্যানলি ম্যাথুস, স্যার ববি চার্লটন ও কেভিন কিগানের পর পঞ্চম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন বায়ার্ন তারকা।
পুরস্কার জয়ের পর সতীর্থদের কাছ থেকেও সংবর্ধনা পেয়েছেন কেইন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ডার ক্লাসিকারের আগে তার অর্জন উদযাপন করে বায়ার্ন। তবে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি দলটি। এর মধ্যে পেনাল্টি মিস করে ব্যক্তিগতভাবেও হতাশ হতে হয় কেইনকে।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে মোট ৭৩টি গোল করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ১৯৮১ সালে কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগের পর বায়ার্ন মিউনিখের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
পুরস্কার জয়ের পরের সময়টাকে ভালো-মন্দের মিশ্র অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে কেইন বলেন, ‘(ব্যালন ডি’অর) উদযাপনের পর থেকে ভালো-মন্দ মিলিয়ে সময় যাচ্ছে। এটা ছিল আমার জন্য বিশাল সম্মানের, ক্লাবের জন্যও। কোনো সন্দেহ নেই আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি ছিল এটি। কিন্তু আমাদের কিছু কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এটা আমাদের আরও কাছাকাছি এনেছে এবং আমরা প্রত্যেক মুহূর্তের জন্য লড়াই করি।’



