...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

২০৪০ সালের পর মানুষকে আর যেসব কাজ করতে হবে না

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৬
Shares
২০৪০ সালের পর মানুষকে আর যেসব কাজ করতে হবে না

২০৪০ সালের পর মানুষকে আর যেসব কাজ করতে হবে না। সংগৃহীত ছবি

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে বদলে যাচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ও রোবটিকসের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে এমন অনেক কাজও ভবিষ্যতে মানুষের হাতে থাকবে না, যেগুলো এখন নিয়মিত করতে হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের পর দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু পরিচিত কাজ প্রযুক্তিই মানুষের হয়ে করে দেবে।

১. ম্যানুয়ালি গাড়ি চালানো

স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন গাড়ির ব্যবহার বাড়লে নিজে গাড়ি চালানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে। যাত্রীরা শুধু গাড়িতে উঠে গন্তব্য নির্বাচন করবেন, এরপর গাড়িই নিজে থেকে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেবে।

২. পাসওয়ার্ড মনে রাখা

বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ, পাসকি, মুখ ও চোখের স্ক্যানসহ বিভিন্ন নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় প্রচলিত টেক্সট পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভরতা কমে আসতে পারে। ফলে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলাও থাকবে না।

৩. সুপারশপে লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দেওয়া

কম্পিউটার ভিশন, সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে সুপারশপে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। পছন্দের পণ্য নিয়ে বেরিয়ে গেলেই প্রযুক্তির মাধ্যমে হিসাব শনাক্ত করে নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া সম্ভব হবে।

৪. নিজে ভাষা অনুবাদ করা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তাৎক্ষণিক অনুবাদ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সাথে কথা বলার সময় সরাসরি অনুবাদ শোনা যেতে পারে। কানে পরার যন্ত্র বা স্মার্ট ডিভাইস কথোপকথনের ভাষা তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করে দেবে। এতে ভাষাগত বাধা অনেকটাই কমে আসবে।

৫. নিজের দিনের রুটিন সাজানো

ব্যক্তিগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী ভবিষ্যতে মানুষের দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ পরিচালনা করতে পারে। মিটিং, চিকিৎসকের সাক্ষাৎ, ভ্রমণের টিকিট বুকিংসহ বিভিন্ন কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে এআই নিজেই সময়সূচি সাজিয়ে দিতে পারবে।

৬. ঘর পরিষ্কার করা

উন্নত গৃহস্থালি রোবটের ব্যবহার বাড়লে ঘর পরিষ্কার, মেঝে মোছা, থালাবাসন ধোয়া কিংবা কাপড় ভাঁজ করার মতো সময়সাপেক্ষ কাজও মানুষের বদলে রোবট করতে পারবে। ফলে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের চাপ অনেকটাই কমে আসতে পারে।

৭. চাবি ও মানিব্যাগ সাথে রাখা

স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ ও বায়োমেট্রিক পরিচয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে চাবি ও মানিব্যাগ বহনের প্রয়োজনও কমে যেতে পারে। ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করে বাড়ির দরজা খোলা থেকে শুরু করে কার্ড বা অর্থ পরিশোধের কাজও স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে।

৮. নিজে ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজা ও গবেষণা করা

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এআই এজেন্ট মানুষের হয়ে ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজে বের করতে পারবে। একাধিক ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন পণ্যের তুলনা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার মতো দায়িত্বও এআই নিজেই সামলাতে পারে। এতে সাধারণ তথ্য খোঁজার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারনেট ঘাঁটার প্রয়োজন কমে যাবে।

৯. অপরিচিত রাস্তার দিক মনে রাখা

অগমেন্টেড রিয়্যালিটি প্রযুক্তির চশমা ও উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা মানুষের চলার পথে চোখের সামনেই দিকনির্দেশনা দেখাতে পারবে। অপরিচিত শহর, জটিল সড়ক কিংবা বিমানবন্দরের মতো জায়গায় কোথায় যেতে হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখিয়ে দেবে প্রযুক্তি। ফলে রাস্তার দিক মনে রাখার প্রয়োজনও অনেকটাই কমে আসবে।

প্রযুক্তির এই পরিবর্তনগুলো পুরোপুরি কবে বাস্তব জীবনে সাধারণ হয়ে উঠবে, তা নিশ্চিত নয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির অগ্রগতি বলছে, আগামী কয়েক দশকে মানুষের দৈনন্দিন কাজের ধরন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।