...|...|...

বিশ্ব

হৃদরোগের জটিলতায় গৃহবন্দিত্ব চাইলেন মাদুরোর স্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:১১
Shares
হৃদরোগের জটিলতায় গৃহবন্দিত্ব চাইলেন মাদুরোর স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় হৃদরোগের জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন ভেনিজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো। আগামী বছরের জুনে শুরু হতে যাওয়া বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ম্যানহাটনের নির্দিষ্ট একটি বাসায় রাখার আবেদন জানিয়েছে তার আইনজীবী দল।

বুধবার ম্যানহাটনের বিচারিক আদালতে দাখিল করা আবেদনে আইনজীবীরা জানান, বর্তমানে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। এ কারণে কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দিত্বে রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার আগে ৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেস তার ‘মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস’ নামের হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত একটি মাসিক ইনজেকশন নিতেন। তবে বন্দি হওয়ার পর থেকে তিনি সেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

আইনজীবীদের দাবি, গত ২৯ জুলাই মার্কিন হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি মৃদু হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তার নিয়মিত ওষুধের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বুকের ব্যথার সময় ব্যবহারের জন্য তাকে সবসময় নাইট্রোগ্লিসারিন সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।

আইনি দল আরও জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার হৃদযন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। তবে বড় ধরনের চিকিৎসার পর ডিটেনশন সেন্টারে পর্যাপ্ত পুনর্বাসন সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন তারা।

জামিনের শর্ত হিসেবে সিলিয়া ফ্লোরেসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাকে ম্যানহাটন আদালত এলাকার মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নজরদারির আওতায় রাখা হবে। তার বাসায় সার্বক্ষণিক সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ থাকবে এবং ফোন কলও রেকর্ড করা হবে। আদালত ও মার্কিন প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই কেবল তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

যদিও ফ্লোরেস কারাগারের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেননি, তবে তার আইনজীবীদের মতে, বর্তমান পরিবেশ তার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত নয়।

রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ভূমিকা রাখা সিলিয়া ফ্লোরেস ২০১৩ সালে ভেনিজুয়েলার ফার্স্ট লেডি হওয়ার আগে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ও নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচার ও অন্যান্য অভিযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা