...|...|...

সারাদেশ

হাসপাতালের ফ্যান চুরির দায়ে কারাগারে বিএনপি নেতার ছেলে

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৫৮
Shares
হাসপাতালের ফ্যান চুরির দায়ে কারাগারে বিএনপি নেতার ছেলে

মো. মান্না শেখ। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকালে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালত এ রায় দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। ভবনের পেছনে থাকা অব্যবহৃত ক্যানটিন কক্ষ থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যান, লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক ব্যক্তিকে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ চুরির ঘটনায় মান্না শেখকে শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মান্না শেখ আত্মগোপনে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর মান্না শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হলে আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। দণ্ডাদেশের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত সাজা দেন।